‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ কঙ্গনা, বললেন—‘হিন্দু-মুসলিমের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন’ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, August 21, 2026

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ কঙ্গনা, বললেন—‘হিন্দু-মুসলিমের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন’


 জাতীয় সঙ্গীত 'বন্দে মাতরম' নিয়ে চলমান বিতর্কটি এখন বলিউডের দুই প্রজন্মের অভিনেত্রীদের মধ্যে একটি আদর্শগত সংঘাতে পরিণত হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। অভিনেত্রী ও সাংসদ কঙ্গনা রানাউত প্রবীণা অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। 'বন্দে মাতরম'-এর প্রথম দুটি পঙক্তিকে যথেষ্ট বলে বর্ণনা করলেও তিনি বলেছিলেন যে, গানটির পরবর্তী অংশে দেব-দেবীর উল্লেখ থাকায় এক ঈশ্বরে বিশ্বাসীদের জন্য কিছু পঙক্তি অস্বস্তিকর হতে পারে। এর জবাবে কঙ্গনা শিল্প ও কবিতায় ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং শর্মিলাকে তাঁর চিন্তাভাবনাকে 'হিন্দু-মুসলিম' গণ্ডির বাইরে রাখার আহ্বান জানান।


শর্মিলা ঠাকুর কী বললেন?

সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা আইএএনএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শর্মিলা ঠাকুর 'বন্দে মাতরম'-এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে, গানটির প্রথম দুটি পঙক্তি বিভিন্ন ধর্মবিশ্বাসের মানুষকে একত্রিত করার জন্য উপযুক্ত।

শর্মিলা ঠাকুরের মতে, কিছু ধর্মীয় সম্প্রদায় এক ঈশ্বরে বিশ্বাসী, এবং কালী ও দুর্গার মতো দেবীদের উল্লেখ থাকা শ্লোকগুলি গাওয়া তাদের জন্য কঠিন হতে পারে। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন যে, সকল ধর্মের মানুষকে একত্রিত করার জন্য শ্লোকগুলিকে প্রথম দুটি শ্লোকের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখাই শ্রেয় হতে পারে।

ইনস্টাগ্রামে কঙ্গনা রানাওয়াতের প্রতিক্রিয়া

কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শর্মিলা ঠাকুরের বক্তব্যের একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন এবং তার সাথে নিজের প্রতিক্রিয়াও লিখেছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি বর্ষীয়ান অভিনেত্রীর মতামত প্রকাশের অধিকারকে সম্মান করেন, কিন্তু শিল্প ও কবিতার এমন ব্যাখ্যা তাঁকে অবাক করে।

কঙ্গনার মতে, কবিরা তাঁদের বক্তব্য কার্যকরভাবে তুলে ধরার জন্য কবিতা ও গানে প্রতীক, চিত্রকল্প এবং রূপক ব্যবহার করেন। তিনি 'বন্দে মাতরম'-কে স্বাধীনতা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে যুক্ত করে বলেছেন যে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এর মাধ্যমে দেশবাসীর ভেতরের শক্তি ও তেজ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।

কঙ্গনা প্রশ্ন তুলেছেন, কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি শৈল্পিক কাজকে শুধুমাত্র ধর্মীয় আচারের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যেতে পারে।


কঙ্গনা 'শক্তি' প্রসঙ্গে বিবেকানন্দের উদাহরণ তুলে ধরেন।

তাঁর উত্তরে, কঙ্গনা 'শক্তি' শব্দটির অর্থ একটি বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। তিনি স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তাধারার উদ্ধৃতি দেন, যেখানে তিনি শক্তিশালী ও উদ্যমী যুবসমাজের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছিলেন।

কঙ্গনা বলেন যে, বিবেকানন্দ যখন যুবশক্তির কথা বলেছিলেন, তখন তিনি দেশের যুবশক্তির কথাই উল্লেখ করছিলেন। এই যুক্তির ভিত্তিতে, তিনি 'বন্দে মাতরম'-এ 'শক্তি'-র উল্লেখকে শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন।

তিনি শর্মিলা ঠাকুরের কাছে আবেদন করে বলেন যে, এই বিষয়টিকে হিন্দু-মুসলিম দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, সকলের উচিত একে অপরকে আপন করে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

'বন্দে মাতরম' নিয়ে পুরনো বিতর্কটি আবার সংবাদে ফিরে এসেছে।

'বন্দে মাতরম' ১৮৭০-এর দশকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচনা করেছিলেন এবং পরে এটি তাঁর 'আনন্দমঠ' উপন্যাসে অন্তর্ভুক্ত হয়। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় এই কবিতাটি জাতীয় চেতনা ও দেশপ্রেমের এক বিশিষ্ট প্রতীক হয়ে উঠেছিল।

গানটির প্রথম দুটি পদে ভারতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উর্বরতার বর্ণনা রয়েছে। পরবর্তী পদগুলিতে দুর্গা, লক্ষ্মী এবং সরস্বতীর মতো হিন্দু দেবীদের উল্লেখ আছে। এর ফলে সময়ে সময়ে গানটির বিভিন্ন দিক নিয়ে আদর্শগত ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

শর্মিলা ঠাকুরের বিবৃতি এবং কঙ্গনা রানাওয়াতের প্রতিক্রিয়া এই বহু পুরনো বিতর্কটিকে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। দুই অভিনেত্রীর মতামত এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ তুলে ধরে। যেখানে শর্মিলা ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রেক্ষাপটে গানটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সেখানে কঙ্গনা এর কাব্যিকতা, প্রতীকবাদ এবং জাতীয় চেতনার বৃহত্তর প্রেক্ষাপটের পক্ষে যুক্তি দিয়েছেন।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad