‘আপনি কবে বড় হবেন?’ মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ, পাল্টা আক্রমণে বিজেপি - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, August 14, 2026

‘আপনি কবে বড় হবেন?’ মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাহুলের কটাক্ষ, পাল্টা আক্রমণে বিজেপি



প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতি নিয়ে কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাহুলের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। দলের একাধিক নেতা অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে রাহুল এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা বিরোধী দলনেতার মতো সাংবিধানিক পদের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সম্প্রতি ‘রচনাত্মক কংগ্রেস জাতীয় সম্মেলন’-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতি নিয়ে কটাক্ষ করেন। তাঁর দাবি, বিদেশনীতি নিয়ে মোদির দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত সরল এবং বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাঁদের আলিঙ্গন করার মতো প্রতীকী বিষয়গুলিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বক্তব্যের সময় কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিতকে আলিঙ্গন করে রাহুল তাঁর বক্তব্য বোঝানোর চেষ্টা করেন। এরপর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির প্রসঙ্গও ওঠে।


রাহুলের এই মন্তব্যের পরই পাল্টা আক্রমণে নামে বিজেপি

‘আপনি কবে বড় হবেন?’—প্রহ্লাদ জোশি
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশি রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, দেশের জন্য পরিণত নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, রাহুলের বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিপক্বতার অভাব দেখা যাচ্ছে।

জোশির দাবি, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ও প্রধানমন্ত্রীকে ‘জোকার’ বা ‘মসখরা’ বলা রাজনৈতিক আলোচনার মানকে নিচে নামায়। তাঁর বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কোনও পারিবারিক উত্তরাধিকার বা বংশগত রাজনীতির কারণে প্রধানমন্ত্রী হননি; তিনি নির্বাচিত নেতা।

‘প্রধানমন্ত্রীকে অপমান মানে জনগণকে অপমান’

প্রহ্লাদ জোশি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেশের মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত করেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর পদকে অপমানজনক ভাষায় আক্রমণ করা আসলে দেশের ভোটারদের প্রতিও অসম্মান।

বিজেপির বক্তব্য, বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সরকারের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা ও সমালোচনা করার পূর্ণ অধিকার রাহুল গান্ধীর রয়েছে। তবে সেই সমালোচনার ক্ষেত্রেও ভাষার শালীনতা ও সাংবিধানিক পদের মর্যাদা বজায় রাখা প্রয়োজন।

গিরিরাজ সিংয়েরও তীব্র আক্রমণ

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংও রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি রাহুলের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, তাঁর মন্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করছে।

বাঁসুরি স্বরাজের নিশানায় রাহুল

বিজেপি সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজও রাহুল গান্ধীর ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলনেতার মতো সাংবিধানিক পদে থাকা একজন নেতার কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বক্তব্য প্রত্যাশিত।
তাঁর দাবি, সরকারের নীতির সমালোচনা করা উচিত তথ্য ও জনস্বার্থের বিষয় সামনে রেখে। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় হওয়ার মতো মন্তব্য করা বিরোধী দলের দায়িত্ব নয়।

সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও রাহুলের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে করা মন্তব্য রাজনৈতিক আলোচনার মানকে আরও নিচে নামিয়েছে।

বিতর্ক আরও তীব্র

রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিদেশনীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে রাহুল বিদেশনীতি নিয়ে মোদি সরকারের সমালোচনা করছেন, অন্যদিকে বিজেপি নেতারা তাঁর ভাষা ও রাজনৈতিক আচরণকে নিশানা করছেন।
ফলে এই বিতর্কে এখন শুধু বিদেশনীতি নয়, রাজনৈতিক ভাষার শালীনতা এবং বিরোধী দলনেতার সাংবিধানিক দায়িত্ব—এই দুই বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad