'আপনাদের সাহায্য চাই', স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বিশেষ আবেদন সোনাম ওয়াংচুকের - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, August 14, 2026

'আপনাদের সাহায্য চাই', স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বিশেষ আবেদন সোনাম ওয়াংচুকের


ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৪ আগস্ট ২০২৬: স্বাধীনতা দিবসের আগে দেশের ভবিষ্যৎ ও নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জনগণের কাছে এক আবেগঘন আবেদন জানিয়েছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি জনগণকে এই স্বাধীনতা দিবসে তাঁকে যদি কোনও উপহার দিতে হয়, তাহলে এমন লোকেদের নাম প্রস্তাব করুন, যিনি নিঃস্বার্থ, সৎ, চরিত্রবান এবং নীতিবাদে চলেন তথা দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অবদান রাখতে পারেন।


বৃহস্পতিবার রাতে সমাজমাধ্যমে পোস্ট এক ভিডিও বার্তায় সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বলেন, "এই দেশের একটি বড় পরিবর্তন, একটি বড় বিপ্লব, একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব প্রয়োজন, যাতে আসন্ন নির্বাচনে এমন নেতারা এগিয়ে আসেন যারা সত্যিই দেশকে সঠিক পথ দেখাতে পারবেন। এর জন্য আমি আমাদের দেশের সেরা মেধাবীদের সাহায্য চাই। আমি জানি না তারা কোথায় আছেন বা কারা এবং আপনারা আমাকে তাঁদের খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারেন। এই স্বাধীনতা দিবসে, আমাকে একটি উপহার দিন। এমন ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করুন যাদের আপনারা চেনেন এবং যাদের মধ্যে আমাদের দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন রূপকল্প ও দিকনির্দেশনা তৈরিতে সাহায্য করার মতো প্রয়োজনীয় গুণাবলী রয়েছে।"



ওয়াংচুক জানান, তিনি গত কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং শয্যাশায়ী থাকাকালীন দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছিলেন। তিনি বলেন, যতই তিনি এ নিয়ে ভাবছিলেন, ততই তিনি হতাশ হয়ে পড়ছিলেন। তাঁর মতে, পাঁচ দশক আগে ভারতের সমকক্ষ বা তার চেয়ে পিছিয়ে থাকা অনেক ছোট দেশ এখন ভারতকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে গেছে। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মাথাপিছু আয় এবং জিডিপির মতো মাপকাঠিতেও ভারত উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। 


ওয়াংচুক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ২০৪৭ সালের মধ্যে ভারতের উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে। দেশের ভবিষ্যতের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করে তিনি বলেন, যতদিন শিক্ষা ব্যবস্থা পিছিয়ে থাকবে, দেশের ভবিষ্যৎ এগোতে পারবে না।


সাম্প্রতিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে এবং কিছু পরিবর্তনও হয়েছে, কিন্তু শুধু সরকার বা মন্ত্রী বদলালেই অলৌকিক কিছু ঘটবে না।


ওয়াংচুক বলেন, যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দলের সরকারগুলোর মনোভাব প্রায়শই একই রকম বলে মনে হয়। তিনি বলেন, তার মতামত কোনও একটি দলের বিরুদ্ধে নয়, তা শাসক দল হোক বা বিরোধী দল বরং তা দেশের পরিস্থিতি নিয়ে।


তিনি বলেন, শুধু সরকার বদলালেই দুর্নীতি ও অবিচার দূর হয় না। তাঁর মতে, সঠিক নেতৃত্ব তুলে আনার জন্য দেশে আরও বৃহত্তর ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন প্রয়োজন। 


ওয়াংচুক দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের অন্যতম বড় ঘাটতি রয়েছে। নেতৃত্ব সঠিক না হলে পুরো দেশ ভুল পথে যেতে পারে।


তিনি দাবী করেন যে, প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্য অভিযোগের সম্মুখীন এবং বেশ কয়েকজন সাংসদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন। তবে, তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, তিনি কোনও নির্দিষ্ট দল বা বিরোধী দলের কথা উল্লেখ করছেন না।


ওয়াংচুক বলেন, দেশে বড় ধরণের পরিবর্তন আনার জন্য তিনি দেশের ‘শ্রেষ্ঠ মননশীল’ ও বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করতে চান। তিনি এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে জনগণের সাহায্য চেয়েছেন, যারা শুধু বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সক্ষমই নন বরং নিঃস্বার্থ, উত্তম চরিত্রের এবং নীতিবান।


তিনি জনগণের কাছে আবেদন করেন, তাঁরা যেন ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত এমন ব্যক্তিদের নাম প্রস্তাব করেন, যারা দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি নতুন দিকনির্দেশনা তৈরিতে অবদান রাখতে পারেন। ওয়াংচুক বলেন, তিনি এই ধরণের ব্যক্তিদের সাথে দেখা করার জন্য বিভিন্ন রাজ্য ও শহর পরিদর্শন করতে চান।



ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, "এই স্বাধীনতা দিবসে, আমার আপনাদের সাহায্য চাই। এই দেশে একটি শান্তিপূর্ণ বিপ্লব প্রয়োজন, অন্তত আমাদের নেতা নির্বাচনের পদ্ধতিতে, যদি আমরা ২০৪৭ সাল নাগাদ একটি সম্মানজনক জাতি হিসেবে টিকে থাকতে চাই। আমাদের প্রায় অর্ধেক সাংসদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে, আস্থার অভাবই দেশের সবচেয়ে বড় ঘাটতিতে পরিণত হয়েছে। কী পরিবর্তন করতে হবে এবং কীভাবে, তা নিয়ে আলোচনার জন্য আমি দেশের সেরা চিন্তাবিদদের সাথে, তাঁরা যেখানেই থাকুন না কেন, পরামর্শ করতে চাই।"


তিনি বলেন, "শুধু চিন্তাশীল বুদ্ধিজীবীরাই নন বরং এমন নিঃস্বার্থ, নির্ভীক, চরিত্রবান ও গুণী নারী। প্রত্যন্ত লাদাখে বসে আমি জানি না তাঁরা কারা এবং কোথায় আছেন, তাই আপনি দেশ এবং আপনার অঞ্চল থেকে অন্তত এমন একটি নাম প্রস্তাব করে সাহায্য করতে পারেন, একসাথে আমরা ভারতের দ্বিতীয় স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু করতে পারি!"


সোনম ওয়াংচুক এই স্বাধীনতা দিবসে উপহার হিসেবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা ও ইচ্ছা আছে এমন ব্যক্তিদের নাম তাঁকে দেওয়ার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ করেছেন। তাঁদের স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি তাঁর আবেদন শেষ করেন।


উল্লেখ্য, ওয়াংচুক ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের সমর্থনে ২৬ দিনের অনশন করেছিলেন। তাঁর অনশনের পর আন্দোলনটি ব্যাপক সমর্থন লাভ করে। এর পরে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কথাও সামনে আসে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad