ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৭ আগস্ট ২০২৬: স্বাধীনতা দিবসের আগে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো আইএসআই-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযান চালিয়েছে। ১৪টি রাজ্য জুড়ে পরিচালিত অভিযানে শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত ২০০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজন ও ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ১৪টি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালায়। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই অভিযান সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন।
শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান চলাকালে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ আইইডি, অস্ত্র, তাজা গুলি এবং গ্রেনেড উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া কয়েকটি গ্রেনেডে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্ন ছিল। এই নেটওয়ার্কের সাথে জড়িতদের কাছ থেকে পিস্তল, গুলি এবং গুপ্তচরবৃত্তিতে ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরাও উদ্ধার করা হয়েছে। সংস্থাগুলোর মতে, এই নেটওয়ার্কটি দেশে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ এবং সহিংসতা ছড়ানোর ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। সময়োচিত পদক্ষেপের মাধ্যমে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো স্বাধীনতা দিবসের আগে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে। উল্লেখ্য, জুলাই মাসে মহারাষ্ট্র এটিএস শাহজাদ ভাট্টির সংস্পর্শে আসা ১০২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল।
এই পদক্ষেপ সম্পর্কে সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এক্স পোস্টে তিনি লেখেন, "মোদী সরকার স্বাধীনতা দিবসের আগেই আইএসআই-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী 'শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক'-কে ধ্বংস করে দিয়েছে এবং ২০০ জনেরও বেশি সদস্যকে গ্রেফতার করে তাদের বিপজ্জনক হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী ১৪টি রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে একযোগে অভিযান চালিয়ে এই নেটওয়ার্কটিকে ভেঙে দিয়েছে, যা সন্ত্রাসবাদের প্রতি ভারতের জিরো টলারেন্স নীতির একটি প্রধান উদাহরণ।"
তিনি বলেন, "আইএসআই-এর অর্থায়নে পরিচালিত এই গোষ্ঠীটির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আইইডি, পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির লেবেলযুক্ত গ্রেনেড, পিস্তল, তাজা গুলি এবং গুপ্তচরবৃত্তির জন্য ব্যবহৃত সিসিটিভি ক্যামেরা। এই নেটওয়ার্কটি অসংখ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল।"
কোথায় কত পদক্ষেপ?
উত্তর প্রদেশ – ৬২
হরিয়ানা – ৫২
দিল্লী – ৫১
পাঞ্জাব – ৪৪
রাজস্থান – ১৫
মহারাষ্ট্র – ৮
উত্তরাখণ্ড – ৫
কর্নাটক, গুজরাট এবং বিহার – প্রত্যেকটিতে ৩টি করে
তেলেঙ্গানা, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীর এবং কেরালা – প্রত্যেকটিতে ২টি করে
এখন পর্যন্ত গৃহীত ব্যবস্থা-
এই অভিযানের সময় দিল্লী এবং কর্নাটকে নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ৮০টিরও বেশি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এই নেটওয়ার্কের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ, বিএনএস, অস্ত্র আইন, এনডিপিএস আইন এবং বিস্ফোরক পদার্থ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থাগুলো আইইডি, পিস্তল, তাজা গুলি এবং গ্রেনেড উদ্ধার করেছে।
উদ্ধার করা কয়েকটি গ্রেনেডে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির চিহ্ন রয়েছে, যা এই নেটওয়ার্কের আন্তঃসীমান্ত সংযোগের তদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ১৫ই আগস্টের আশেপাশে এসবিএন এবং তাদের স্থানীয় নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত সন্দেহভাজনদের ওপর ক্রমাগত নজরদারি করছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।

No comments:
Post a Comment