ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৭ আগস্ট ২০২৬: ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন তাঁর নতুন দল পেয়েছেন। সোমবার বিজেপি কেন্দ্রীয় সংগঠনে বেশ কয়েকজন নেতৃত্বকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিযুক্ত করেছে। নীতিন নবীনের নতুন দলে যাদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও রয়েছেন। জাতীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত পীযূষ গোয়েলও এই তালিকায় আছেন। নীতিনের 'টিমে' জায়গা করে নিয়েছেন বাংলার মনোজ টিপ্পা এবং মধুছন্দা কর। নবনিযুক্ত এই টিমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
নীতিন নবীনের নতুন দলে বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়াকে সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। তীর্থ সিং রাওয়াতকে সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। রাম মাধবকে সহ-সভাপতি এবং বাইজয়ন্ত জয় পান্ডাকেও সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। রেখা ভার্মাকেও সহ-সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। বিনোদ তাওড়েকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। স্মৃতি ইরানিকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। সতীশ পুনিয়া এবং গজেন্দ্র প্যাটেলও সাধারণ সম্পাদক হবেন। হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়াকেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। বি. এল. সন্তোষ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বহাল থাকবেন। সোমবার সকাল থেকেই জল্পনা চলছিল যে নীতিন নবীনের দলে কোন নেতারা অন্তর্ভুক্ত হবেন। বিজেপি এখন তাদের নাম এবং নির্ধারিত দায়িত্ব প্রকাশ করেছে।
তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক সম্ভবত বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়া। রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি পদ দিয়েছে বিজেপি। রাজস্থানে অনামী ভজনলাল শর্মাকে মুখ্যমন্ত্রী করার পরই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে বসুন্ধরার দূরত্ব বেড়েছে বলে জল্পনা ছড়ায়। কিন্তু তাঁকে আবারও ফিরিয়ে আনা হল দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে। এর পাশাপাশি, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে অমেঠিতে অনামী কিশোরী লাল শর্মার কাছে হারের পর রাজনীতি থেকে বেশ দূরে চলে গিয়েছিলেন স্মৃতি ইরানি। ফিরে যান অভিনয় পেশায়। জনপ্রিয় সিরিয়াল 'কিঁউ কি সাস ভি কভি বহু থি'তে দেখা যায় তাঁকে। নীতিনের টিমে সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন তিনি। বাংলা থেকে ক্যানসার চিকিৎসক মধুছন্দা করকে রাখা হয়েছে সর্বভারতীয় সহ-সভাপতিদের তালিকায়। এছাড়া আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিপ্পা সাধারণ সম্পাদকের পদ পেয়েছেন।
অন্যদিকে আইটি সেলের মাথা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অমিত মালব্যকে। তাঁর পরিবর্তে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছত্তিশগড়ের দীপক মাস্কেকে। প্রায় ১০ বছর ধরে বিজেপির আইটি সেল সামলেছেন মালব্য। পশ্চিমবঙ্গের কো ইনচার্জ হিসাবেও কাজ করেছেন। এবারে তাঁকে সরানো হল। বলা যায়, গোটা মিডিয়া টিমই ঢেলে সাজিয়েছেন নীতিন নবীন।
সংসদের বাদল অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেই সাংগঠনিক রদবদল ঘোষণা হবে-দলীয় স্তরে এমন ইঙ্গিত আগেই দেওয়া হয়েছিল। ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং তার পরের দিন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় কর্মসূচি থাকায় ঘোষণার জন্য সোমবারকেই বেছে নেয় পদ্ম শিবির। শোনা গিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সংগঠনে এক ঝাঁক নতুন মুখকে জায়গা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ নজর তরুণ নেতৃত্ব এবং মহিলা নেত্রীদের দিকে। অভিজ্ঞদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভারসাম্য রেখে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করাটাই এই রদবদলের লক্ষ্য।
বিজেপির এই নতুন টিম প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, "বিজেপির নবনিযুক্ত জাতীয় পদাধিকারীদের এবং সেইসাথে দলে বিভিন্ন দায়িত্বে নিযুক্ত সকল সাথীদের অনেক অভিনন্দন। এই উদ্যমী দলটির রয়েছে সমৃদ্ধ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং মাটির স্তরে শক্তিশালী সংযোগ। আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে, এই সহকর্মীরা সম্পূর্ণ নিষ্ঠার সাথে দলকে শক্তিশালী করতে এবং জনকল্যাণমূলক কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে কাজ করবেন। সকলের জন্য আমার শুভকামনা রইল।"
পাশাপাশি নিজের নতুন টিম প্রসঙ্গে বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন বলেছেন - "ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় দলের নবনিযুক্ত সকল পদাধিকারীদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা। অভিজ্ঞতা ও শক্তিতে ভরপুর এই দলটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশনায় সংগঠনকে নতুন গতি দেবে। আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে, দলের সকল সদস্য কর্মীসুলভ মনোভাব নিয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে 'উন্নত ভারত'-এর সংকল্প এবং জাতীয় সেবার লক্ষ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।"


No comments:
Post a Comment