ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৪ আগস্ট ২০২৬: স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের। নাম না করেই শরীফ বলেন, পাকিস্তানকে যদি চ্যালেঞ্জ করা হয়, তাহলে ২০২৫ সালের মে মাসের চেয়েও কঠোর জবাব মিলবে। উল্লেখ্য, গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানে প্রবেশ করে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে ভারত এবং অসংখ্য গোপন আস্তানা ধ্বংস করে।
পাকিস্তানি সংবাদপত্র ‘দ্যা ডন’-এর মতে, শরীফ বলেছেন যে, পাকিস্তান শান্তি চায়, যুদ্ধ নয়। আর এটিকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখা উচিৎ নয়। তিনি বলেন, "কেউ যদি পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জ করে, তবে তাঁদের ২০২৫ সালের মে মাসের চেয়েও কঠোর জবাব মিলবে।"
শরীফের দাবী, ভারত পরাজয়ের পর সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করে। যদিও ভারত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত করেছিল, যা পরে পাকিস্তানের অনুরোধে বন্ধ করা হয়। এদিকে, পাকিস্তানি নেতারা বিভিন্ন সময়ে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমি হুঁশিয়ারি দিতে দিচ্ছি যে, জলের প্রতিটি ফোঁটাই আমাদের লক্ষ্মণরেখা। ভারত যদি সঠিক পথে না চলে, তাহলে আমরা জবাব দেব।"
উল্লেখ্য, ৭ই আগস্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সংসদে বলেন, "সরকারের দৃঢ় অবস্থান হল, পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেবল তখনই এগোতে পারে যখন পরিবেশটি সন্ত্রাস, শত্রুতা এবং সহিংসতামুক্ত থাকবে। কিন্তু, পাকিস্তান আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের নীতি অনুসরণ করে চলেছে এবং এটিকে ভারতের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নীতির একটি উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে।"
তিনি বলেন, ২০১৯ সালে পুলওয়ামা সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের 'মোস্ট ফেভারড নেশন' মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেয় ভারত এবং পাকিস্তান থেকে আসা বা রপ্তানি করা সমস্ত পণ্যের ওপর শুল্ক ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।
জয়শঙ্কর বলেন, ২০২৫ সালের ২২শে এপ্রিল পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীদের সংঘটিত পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারত বেশ কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপ করেছিল। এর মধ্যে ছিল সিন্ধু জল চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা, আটারি চেকপয়েন্ট বন্ধ করা, ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা এবং সংশ্লিষ্ট মিশনে কূটনৈতিক ও দাপ্তরিক উপস্থিতি হ্রাস করা।
মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, গত পাঁচ বছরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভিন্ন স্তরে কতগুলি দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়েছে এবং কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আরও জিজ্ঞাসা করেন যে, সরকার এখনও মনে করে কিনা যে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক অসম্ভব?
তিনি বলেন, "আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ ও এর পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, যেকোনও ধরণের ব্ল্যাকমেলের প্রতি উদাসীনতা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য গৃহীত ব্যাপক পদক্ষেপের বিষয়ে ভারত তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে। এই বিষয়গুলির ওপর ভিত্তি করে, ভারত বিশ্বাস করে যে, স্বাভাবিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জন্য আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা অপরিহার্য।"

No comments:
Post a Comment