ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৯ আগস্ট ২০২৬: 'যারা ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দেবে, তাদের গুরুতর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে', রবিবার এমনই কড়া বার্তা দিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। পাশাপাশি অপারেশন সিঁদুর-এর সাবল্যও তুলে ধরেন তিনি। রাজনাথ সিং বলেন, 'অপারেশন সিঁদুর' বিশ্বকে এই বার্তা দিয়েছে যে, ভারত তাঁর নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যেকোনও পর্যায়ে যেতে পারে। পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার জন্য শুরু করা এই অভিযানটি বিশ্বের সামনে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি প্রদর্শন করেছে। নয়াদিল্লীর বেস হাসপাতালে আয়োজিত 'সিঁদুর মহারক্তদান যাত্রা' নামক একটি রক্তদান শিবিরে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এই কথা বলেন।
তিনি বলেন যে 'অপারেশন সিঁদুর' যেখানে ছিল সাহস ও বীরত্বের প্রদর্শন, এই শিবিরটি সেখানে সহানুভূতির প্রতীক। রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, আজকের এই রক্তদান ভবিষ্যতে সৈনিক (যাঁদের প্রয়োজন হবে) এবং তাঁদের পরিবারের জন্য কাজে লাগবে।
তিনি দেশের নাগরিকদের, বিশেষ করে যুবদের, রক্তদানকে একটি সংস্কৃতিতে পরিণত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। রাজনাথ সিং বলেছেন যে, প্রত্যেক রক্তদাতা নিজ নিজ উপায়ে দেশের সেবা করছেন।
এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, 'যারা ভারতের দিকে কুদৃষ্টি দেবে, তাদের গুরুতর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।' তিনি পাকিস্তানে অবস্থিত সন্ত্রাসী ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে গৃহীত পদক্ষেপের জন্য ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রশংসা করেন।
রাজনাথ সিং বলেন, ২০২৫ সালের মে মাসে পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার জবাবে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ দেশের নিরাপত্তা নীতি এবং সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তিনি বলেন, এই অভিযান এই বার্তা দিয়েছে যে, ভারত তাঁর নাগরিক এবং নারীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে যেকোনও চ্যালেঞ্জের কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালে ভারত যখন স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্ণ করবে, তখন দেশের লক্ষ্য শুধু একটি উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত হওয়াই হওয়া উচিৎ নয়। এর জন্য একটি সহানুভূতিশীল ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলাও প্রয়োজন, যেখানে প্রয়োজনে মানুষ সময়মতো রক্তের মতো অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে এই শিবিরে রক্তদানকারীদের মধ্যে মহারাষ্ট্রের ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং ১০০০ জন কুস্তিগীর ও ক্রীড়াবিদ ছিলেন। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে, আয়ুষ প্রতিমন্ত্রী (স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত) প্রতাপ রাও যাদব, মহারাষ্ট্রের শিল্পমন্ত্রী উদয় রবীন্দ্র সামন্ত, সাংসদ শ্রীকান্ত একনাথ শিন্ডে, সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরাজ শেঠ, ডিজি (এএফএমএস) সার্জন ভাইস অ্যাডমিরাল আরতি সারিন এবং সেনাবাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তারা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

No comments:
Post a Comment