ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৯ আগস্ট ২০২৬: রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল নেতাদের কপালে জুটছে ডিম থেরাপি। বিক্ষোভ প্রদর্শন হোক বা প্রতিবাদ, এই ডিম ছোড়া এখন যেন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এই ডিম থেরাপি যে রাজ্য ছাড়িয়ে দেশ তো ছাড়ুন, বিদেশেও পৌঁছে যেতে পারে, ভাবতে পেরেছেন কখনও? আজ্ঞে হ্যাঁ, এমন ঘটনাই ঘটেছে কসোভোতে। তাও আবার সংসদের ভেতরে। শনিবার কসোভো সংসদের ভেতরে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির দিকে ডিম ছুঁড়ে মারলেনা একজন বিরোধীদলীয় সাংসদ। এর জেরে সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়।
৭ জুনের সাধারণ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আলবিন কুর্তির দল, ভেতেভেনদোশে, যখন বিরোধী দলগুলোর সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছিল, ঠিক তখনই এই গণ্ডগোলটি ঘটে। যদিও ভেতেভেনদোশে ১২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৫৩টি জিতে বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, জোটসঙ্গী ছাড়া সরকার গঠনের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
বিরোধী দল অ্যালায়েন্স ফর দ্য ফিউচার অফ কসোভো (এএকে)-এর সাংসদ টাইম কাদ্রিজাজ সামনের সারিতে বসে থাকা কুর্তির দিকে এগিয়ে যান এবং তাঁর দিকে বেশ কয়েকটি ডিম ছুঁড়ে মারেন। তিনি চিৎকার করে বলেন, "আপনার লজ্জা হওয়া উচিৎ!" এরপর নিরাপত্তা কর্মী এবং সাথী সাংসদরা বাঁচাতে আসেন। এই ঘটনার পরপরই সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। নিরাপত্তা কর্মীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ফেললে, চেয়ারপার্সন সরাসরি টেলিভিশন সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেন। পরে কাদ্রিয়াজ এই ঘটনার ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করেন।
এই বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়ায়, কুর্তিকে বিচলিত মনে হয়নি। তিনি বলেন যে, রাজনৈতিক বার্তালাপ চালু রাখার মূল্য যদি তাঁর দিকে ডিম ছোড়া হয়, “আমি সেই মূল্য দিতে প্রস্তুত।” সংসদের স্পিকার পদের জন্য কুর্তির প্রার্থী ঘোষণার উদ্দেশ্যেই এই অধিবেশন ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তার পরিবর্তে, তিনি নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আরও সময় চেয়েছেন। তিনি স্বীকার করেছেন যে, চলমান রাষ্ট্রপতি পদের আলোচনায় কোনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। উল্লেখ্য, কসোভোর সংসদে এর আগেও একই ধরণের অশান্তির ঘটনা ঘটেছে।
কসোভো দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় জর্জরিত। বারবার সংসদীয় অচলাবস্থার কারণে দুই বছরেরও কম সময়ে তিনটি সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আইনপ্রণেতারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৭ জুনের নির্বাচন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। একটি কার্যকর সরকার গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আধিকারিকদের নির্বাচিত করার জন্য কুর্তির দল, ভেতেভেন্দোসে-র এখনও বিরোধী দলগুলোর সমর্থন প্রয়োজন। যদিও ১৮টি আসনধারী ডেমোক্রেটিক লীগ অফ কসোভো (এলডিকে)-কে প্রধান জোটসঙ্গী হিসেবে দেখা হচ্ছে, কুর্তি এবং এলডিকে নেতা লুমির আবদিচিকুর মধ্যে বেশ কয়েক দফা আলোচনা কোনও ফল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এদিকে, বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি অফ কসোভো (পিডিকে)-র দখলে রয়েছে ২২টি আসন।
কসোভোর আইন অনুযায়ী, চূড়ান্ত নির্বাচনের ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ গঠন করতে হবে। যদিও সেই সময়সীমা এখন পার হয়ে গেছে, এর আইনি পরিণতি এখনও অস্পষ্ট, কারণ সংবিধানে সময়সীমা লঙ্ঘনের পরিণতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য পৃথক দুই মাসের সময়সীমা প্রযোজ্য। সেই সময়সীমার মধ্যে রাষ্ট্রঅধ্যক্ষ নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন সংসদীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যা কসোভোকে পুনরায় নির্বাচন করতে হতে পারে এমন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

No comments:
Post a Comment