উত্তর ২৪ পরগনা: হালিশহরে গিয়ে প্রবল বিক্ষোভের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে হামলা বিক্ষোভকারীদের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে 'চোর' ও 'ডাকাতরানি' স্লোগান, গাড়ি ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ। উল্লেখ্য, শনিবার হালিশহর থানার হেফাজতে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তৃণমূল কর্মীর। নিহত ওই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় রবিবার। মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয়। এমনকি জুতোও ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা। বিজেপিকেও নিশানা করেছেন তিনি।
নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রবিবার দুপুরে হালিশহরে যান রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন, উপাসনা চৌধুরীরা। তবে, পথেই চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জল ও কাদা ছোড়া হয়। জুতোও ছোড়া হয়। 'চোর ও ডাকাতরানি' স্লোগানও দেওয়া হয়। যদিও প্রবল বিক্ষোভের মাঝেই নিহত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মমতা।
পাশাপাশি বিক্ষোভের এই ঘটনার প্রবল সমালোচনা করেন মমতা। তিনি বলেন, "আমরা তীব্র ধিক্কার জানাচ্ছি। বিজেপি ইট মেরেছে। গাড়ির কী অবস্থা করেছে দেখুন। বাংলা গুন্ডাদের হাতে চলে গিয়েছে।” তিনি বলেন, 'পুলিশের সামনে আমার গাড়িতে হামলা হয়েছে। মৃতের স্ত্রীকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ লকাপের থার্ড ডিগ্রি দিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, 'বিজেপি লুম্পেন বাহিনী নিয়ে এসে আমাদের গাড়ি ঘিরে অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছে। আমি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। পুলিশের সামনে আমাদের গাড়িতে বড় বড় ইট ছোড়া হয়েছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে পুলিশ এই ঘটনা ঘটিয়েছে। কালকেও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দু'বার কথা হয়েছে। তার পরেও এখানকার বিধায়ক এসে মৃতের স্ত্রীকে হুমকি দিয়ে গিয়েছে যাতে আমার সঙ্গে দেখা না করে। আমরা এই ঘটনা নিয়ে মামলা করব।' তাঁর আরও অভিযোগ, 'পুলিশমন্ত্রী নিজে অশান্তি সৃষ্টি করছেন। পুলিশ বিজেপি-র ক্যাডারে পরিণত হয়েছে।'
পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভের ঘটনার নিন্দা করে বলেন, "পরিকল্পনা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারার চক্রান্ত হচ্ছে। সঠিক বিচার হবেই।” পাশাপাশি পুলিশ হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় ডিজি এবং সিপির ইস্তফা দাবী করেন তিনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিরজু কুমারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তিনি তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত। এলাকায় তোলাবাজি-মারামারির অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলেই জানান তদন্তকারীরা। পরিবারের দাবী, গ্রেফতারের পর তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। সন্ধ্যায় তাঁর স্ত্রী জেলে দেখাও করতে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিরজু সুস্থই ছিলেন বলে জানান তাঁর স্ত্রী। হালিশহর থানার পুলিশের দাবী, শুক্রবার ভোররাতে ওই যুবককে অসুস্থ অবস্থায় লকআপে পড়ে থাকতে দেখা যায়। কল্যাণী জহরলাল নেহেরু হাসপাতাল নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে। যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় হাত-পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও অভিযোগ। পরিবারের আরও অভিযোগ, সকালে হালিশহর থানার পুলিশ কল্যাণী হাসপাতালে বিরজুর দেহ রেখে চলে যায়।
এই ঘটনায় শনিবার থেকেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। আর এদিন রবিবার দুপুরে আচমকাই মৃত ওই তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে তুমুল বিক্ষোভে রীতিমতো তুলকালাম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

No comments:
Post a Comment