ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৩ আগস্ট ২০২৬: মা ও ছোট ভাইকে নৃশংস খুন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাকি ঘটেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে। ১৭ বছর বয়সী এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোরের বিরুদ্ধে তার মা এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাইকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্তে নামলে পুলিশের হাতে উঠে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, ওই কিশোর তার মা ও ভাইকে প্রাণে মারার আগে চ্যাটজিপিটি-তে 'পরিবারকে মারার ফ্যান্টাসি'র সঙ্গে জড়িত কিছু সার্চ করেছিল।
ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন ছেলেটির বাবা পুলিশকে জানান যে, তিনি তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারছেন না। মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং পুলিশের মতে, ঘটনাটি ১১ই আগস্ট ঘটে। অভিযুক্তের বাবা জানান যে, তিনি সেদিন সকালে কাজে গিয়েছিলেন এবং তার স্ত্রী সুধা ভেঙ্কটেশন ও ছোট ছেলে সিদ্ধার্থ অরবিন্দের সাথে যোগাযোগ করতে পারেননি। এই তথ্য পেয়ে পুলিশ অ্যাকটনে তাদের বাড়িতে পৌঁছে ভেতরের ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, তার ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থের মৃতদেহ প্রথম তলা থেকে এবং তার মা সুধার মৃতদেহ বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ কর্তারা জানিয়েছেন, দুজনের শরীরেই গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে, মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে এখনও জানা যায়নি।
ঘটনা ঘটানোর পর অভিযুক্ত অর্জুন অরবিন্দ তার মায়ের গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে অর্জুনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। পুলিশ অবিলম্বে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে সতর্ক করে এবং তার জন্য রাজ্যব্যাপী তল্লাশি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। বুধবার ভোরে ম্যাসাচুসেটসের ওয়েল্যান্ড থেকে অর্জুনকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়।
এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে যখন তদন্তকারীরা সন্দেহভাজনের ডিজিটাল জগৎ সম্পর্কে জানতে পারেন। অ্যাটর্নির কার্যালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতি অনুসারে, "তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, অর্জুন সম্প্রতি উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। সে তার পরিবারকে খুন করার তত্ত্ব এবং কল্পনা খোঁজার জন্য ইন্টারনেট এবং চ্যাটজিপিটি-তে অনুসন্ধান করছিল।"
বর্তমানে, অভিযুক্ত অর্জুন অরবিন্দের বিরুদ্ধে দুটি খুনের অভিযোগ, পরিবারের সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা, অনুমতি ছাড়া যানবাহন ব্যবহার এবং যানবাহন চুরিসহ বেশ কয়েকটি গুরুতর ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, অভিযুক্তকে প্রথমে স্থানীয় কিশোর আদালতে হাজির করা হবে। পরবর্তীতে জেলা আদালতে প্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে তার বিরুদ্ধে খুন ও হামলার অভিযোগে বিচার হবে। পুলিশ বর্তমানে ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করছে।

No comments:
Post a Comment