লাইফস্টাইল ডেস্ক, ১০ আগস্ট ২০২৬: বর্ষা ঋতু গরম থেকে স্বস্তি নিয়ে আসে ঠিকই কিন্তু এই সময় গর্ভবতী মহিলাদের তাদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হয়। এই ঋতুতে আর্দ্রতা বৃদ্ধির কারণে ভাইরাল সংক্রমণ, জলবাহিত রোগ, খাদ্যবাহিত সংক্রমণ এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। গর্ভাবস্থায়, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা-সহ শরীরে অনেক পরিবর্তন ঘটে। তাই, সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি মা এবং অনাগত শিশুর সুরক্ষার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন জীবনে কিছু সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে বর্ষাকালে অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা এড়ানো সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক বর্ষাকালে গর্ভবতী মহিলাদের কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ।
১. শুধুমাত্র পরিষ্কার ও নিরাপদ জল পান করুন
বর্ষাকালে জল দূষণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর ফলে পেট ও অন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের শুধুমাত্র পরিষ্কার, ফিল্টার করা বা ভালোভাবে ফোটানো জল পান করার চেষ্টা করা উচিৎ। খোলা জল, বরফ এবং সন্দেহজনক পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো। ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর পরিমাণে জল পান করাও জরুরি।
২. বাইরের এবং কাঁচা খাবার এড়িয়ে চলুন
বর্ষাকালে বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করতে পারে। তাই রাস্তার খাবার, খোলা জায়গায় রাখা সালাদ, কাটা ফল এবং দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা খাবার গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সবসময় তাজা এবং ভালোভাবে রান্না করা খাবার খান। ফল ও সবজি ব্যবহারের আগে পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়াও জরুরি। এই সতর্কতাগুলো খাদ্যবাহিত সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
৩. মশা থেকে সুরক্ষা অত্যন্ত জরুরি
বর্ষাকালে জল জমে থাকার কারণে মশার সংখ্যা বেড়ে যায়। গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ গুরুতর উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বাড়ির চারপাশে জল জমতে দেবেন না। সন্ধ্যায় লম্বা হাতার পোশাক পরা সবচেয়ে ভালো। গর্ভাবস্থায় নিরাপদ বিকল্প বেছে নেওয়া নিশ্চিত করতে যেকোনও রিপেলেন্ট বা মশা তাড়ানোর স্প্রে ব্যবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
৪. পা এবং ত্বকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
বৃষ্টির জল এবং ভেজা কাদার সংস্পর্শে এলে পায়ে ছত্রাক সংক্রমণ এবং ত্বকের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বাইরে থেকে ফিরে এসে পরিষ্কার জল দিয়ে পা ধুয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। দীর্ঘ সময় ধরে ভেজা জামাকাপড় এবং জুতো পরা এড়িয়ে চলুন। আপনার বাড়ির মেঝে পরিষ্কার এবং শুকনো রাখার চেষ্টা করুন। এটি সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি পিছলে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমাতে পারে।
৫. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন
গর্ভবতী মহিলাদের বর্ষাকালে সর্দি, জ্বর, বমি, ডায়রিয়া বা অন্য কোনও সংক্রমণ হলে নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিৎ। গর্ভাবস্থায় কিছু ওষুধ অনিরাপদ বলে মনে করা হয়। তাই, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করার পরেই যেকোনও ওষুধ খাওয়া দরকার।
এছাড়াও প্রচণ্ড জ্বর, শ্বাসকষ্ট, ক্রমাগত বমি, ডায়রিয়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা গর্ভাবস্থা-সম্পর্কিত কোনও অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়, তবে সেগুলোকে উপেক্ষা করবেন না এবং অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
পাশাপাশি, আপনার খাদ্যাভ্যাস এবং বিশ্রামের দিকে মনোযোগ দিন। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত ডাক্তারের কাছে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও অপরিহার্য। আপনার খাদ্যতালিকায় মৌসুমি ফল, সবুজ শাকসবজি, শস্য এবং ডাল অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে আপনার ডাক্তারের পরামর্শকে অগ্রাধিকার দিন।
ভিড় এড়িয়ে চললে সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। মা ও শিশু উভয়ের জন্যই সামান্য সতর্কতা অবলম্বন করা শ্রেয়। বর্ষাকালে এই সামান্য বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলে হবু মায়েরা অনেক জটিলতা এড়াতে পারেন। এই সময়ে পরিষ্কার জল পান করা, তাজা ও ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া, মশা থেকে সুরক্ষা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, এসবের পাশাপাশি যেকোনও স্বাস্থ্য সমস্যায় দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

No comments:
Post a Comment