ন্যাশনাল ডেস্ক, ১৬ আগস্ট ২০২৬: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ চিতোরগড়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেছেন। এর মধ্যে ছিল নিমবাহেরায় ২১ ফুট উঁচু অটল মূর্তির উন্মোচন এবং ৫,৯৫৯ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন। অনুষ্ঠানে অমিত শাহ বলেন, "আমরা সবাই ১৫ই আগস্ট ৮০তম স্বাধীনতা দিবস দেখেছি। বরাবরের মতোই এটি ছিল এক জাঁকজমকপূর্ণ উদযাপন। কিন্তু এবার একটি পরিবর্তন ছিল এবং আমার মতো লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য এই পরিবর্তনটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। স্বাধীনতার ৮০ বছর পর লালকেল্লায় 'বন্দে মাতরম' গাওয়া হল।"
কংগ্রেস দলকে নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, "কংগ্রেস 'বন্দে মাতরম' ভুলে গেছে। 'আমি ভারত মাতাকে বন্দনা করি', এই কথা বলতে বলতে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ ফাঁসিকাঠে ঝুলেছিলেন, গুলি খেয়েছিলেন, লাঠি পেটা খেয়েছেন এবং বছরের পর বছর কারারুদ্ধ করা হয়েছে। ভোট-ব্যাঙ্কের রাজনীতির পেছনে ছুটতে গিয়ে কংগ্রেস 'বন্দে মাতরম' ভুলে গেছে। কংগ্রেস স্বাধীনতা দিবসে 'বন্দে মাতরম'-কে অপমান করেছে; তাঁদের জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ।"
অমিত শাহ বলেন যে, মোদীজি লালকেল্লা থেকে 'বন্দে মাতরম'-কে সম্মান জানিয়েছেন, কিন্তু কংগ্রেস জাতীয় গীতকে অপমান করেছে। তিনি বলেন যে, "কংগ্রেস দলের সদর দফতরে 'বন্দে মাতরম' গাওয়া হচ্ছিল। গানটি চলার সময় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি খাড়গেকে গানটি থামাতে বলেন। আমরা সবাই টিভিতে তা দেখেছি। ৮০ বছর পর, এই অমর মন্ত্র, বঙ্কিমবাবুর এই অমর গান, আবারও সম্মান পাচ্ছে। এতে কংগ্রেস খুশি নয়।"
শাহ বললেন, "সোনিয়া জি, ১৪০ কোটি মানুষ আপনাকে দেখছে। এই দেশের মানুষ এই পাপের জন্য আপনাকে কখনও ক্ষমা করবেন না। বন্দে মাতরম না গেয়ে ছেড়ে দেওয়ার কথা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারে কী করে? কংগ্রেস নেতাদের উচিৎ হাতজোড় করে বঙ্কিম বাবুর অমর আত্মা এবং দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া।"
উল্লেখ্য, কংগ্রেসকে নিশানা করে বিজেপির অভিযোগ, দলের সদর দফতরে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে জাতীয় গীত ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় দলের শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খাড়গে চরম অসম্মান প্রদর্শন করেছেন। বিজেপি তাঁদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবী জানিয়েছে। বিজেপির অনেক নেতা এও অভিযোগ করেছেন যে, অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন সোনিয়া গান্ধী। তবে, বিরোধী দল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে, জাতীয় গীতের সম্পূর্ণ সংস্করণটি গাওয়া বন্ধ করার কোনও চেষ্টা করা হয়নি।

No comments:
Post a Comment