ন্যাশনাল ডেস্ক, ২০ আগস্ট ২০২৬: শিক্ষিকার চড়ে ক্ষুদে পড়ুয়ার মৃত্যু। অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে। বৃহস্পতিবার শহরের ওয়ান টাউন এলাকায় ছয় বছর বয়সী বালকের মৃত্যু হয়। অভিযোগ উঠেছে যে, স্কুলের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষিকা তার জামা ধরে টেনে নিয়ে চড় মারেন, এর জেরে ভয়ে ওই পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউকেজি শ্রেণির ছাত্র প্রণয় তেজকে কিং জর্জ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়। শিশুটির পরিবার ও আত্মীয়স্বজনরা হাসপাতালের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তাঁদের অভিযোগ, মারধরের কারণেই তাঁদের ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
শ্রেণিকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ফুটেজে দেখা যায়, শিক্ষিকা ওই শিশুটিকে ধরে নিজের দিকে টানার চেষ্টা করছেন। এমন মনে হচ্ছে যে, হোমওয়ার্ক চেক করার সময় তাকে বিব্রত করার জন্য তিনি এটা করছেন। শিশুটি কাঁদতে থাকে এবং থামানোর চেষ্টায় হাত নাড়তে থাকে। শিক্ষিকা থামেন, তাকে কিছু একটা বলেন এবং তার গালে চড় মেরে দেন। শিশুটি কয়েক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। তারপর সে শিক্ষিকার ওপরেই পড়ে যায়।
বিশাখাপত্তনম পুলিশ স্কুলছাত্রটির মৃত্যুর কারণ তদন্ত শুরু করেছে। তারা ফুটেজ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। শিশুটির আগে থেকে কোনও অসুস্থতা ছিল কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে যে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেই আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। শোকাহত পরিবারটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং শিশুটির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানিয়েছে।
পুলিশ আধিকারিকরা বলেছেন যে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরেই আরও তথ্য জানানো হবে। প্রণয় তেজের বাবা কৃষ্ণ প্রসাদ বলেছেন যে, শিশুটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল এবং তার কোনও ধরণের অসুস্থতা ছিল না।
মৃত প্রণয় তেজের বাবা কৃষ্ণ প্রসাদ সংবাদমাধ্যমের সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "সকালে আমার ছেলে ঘুম থেকে উঠেই বলে তাকে স্কুলে যেতে হবে। তারপর সে যখন চলে গেল, সবকিছু ঠিকঠাকই মনে হচ্ছিল। দুপুর ১২টার দিকে আমি একটা ফোন পাই। স্কুল থেকে কেউ আমাকে ফোন করেনি। কাছের এক আত্মীয়ের খামারে যে রাঁধুনিরা কাজ করে, তারা আমাকে ফোন করে কী ঘটেছে তা জানায়। আমি ওকে এখানে নিয়ে আসার আগেই কেজি হাসপাতাল থেকে বলা হল যে, সে মারা গেছে। আমি আর কিছুই জানি না। আমরা যখন স্কুলের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দেখলাম, তাতে দেখা গেল যে ম্যাডাম তাকে ভয় দেখিয়েছিলেন। তিনি তাকে ঘুরিয়ে মেরেছিলেন, তিনি তাকে মারধর করেছিলেন। সে ভয় পেয়ে পড়ে গিয়ে মারা যায়। ডাক্তার বলেছেন যে সে আধ ঘন্টা আগেই মারা গিয়েছিল।"
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের কোনও সমস্যা ছিল না। সে গত রাতেও খেলেছে এবং আজ সকালেও ভালোভাবে ঘুম থেকে উঠেছে। তার কোনও সমস্যা ছিল না, ভাইরাল জ্বর বা অন্য কিছুও না। আমরা তিরুপতি ভ্রমণে গিয়েছিলাম এবং মঙ্গলবার সকালেই ফিরেছি।"
তিনি বলেন, "আমি জানি না, আমাদের কাছে কোনও তথ্য নেই, আমরা কিছুই জানি না।" তিনি এও জানান, ওই শিক্ষিকাকে তিনি আগে থেকে চিনতেন না।
প্রসঙ্গত, এর আগে অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর জেলার একজন সফটওয়্যার পেশাজীবী আত্মহত্যা করেছিলেন। তরুণীটি মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোটও লিখে গিয়েছিলেন ।

No comments:
Post a Comment