ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ২৪ মে ৩০২৬: হোয়াইট হাউসের বাইরে এলোপাথাড়ি গুলি। শনিবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউসের কাছে আচমকাই নির্বিচার গুলি কাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা বেষ্টনীর খুব কাছে এই ঘটনাটি ঘটায় সিক্রেট সার্ভিসের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং পুরো হোয়াইট হাউস চত্বর তৎক্ষণাৎ লকডাউন করা হয়। আধিকারিকদের মতে, সন্দেহভাজন হামলাকারী পাল্টা গুলিতে গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
শনিবার হোয়াইট হাউসের কাছে গুলি চালানো বন্দুকধারীকে মেরিল্যান্ডের ২১ বছর বয়সী নাসির বেস্ট হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের গুলিতে তিনি আহত হন এবং হাসপাতালে যাওয়ার পথে মারা যান। ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেস্টের এর আগেও সিক্রেট সার্ভিসের সাথে একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল এবং তার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ইতিহাস ছিল।
মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের একজন আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, হোয়াইট হাউস চত্বরের ঠিক বাইরে ১৭তম স্ট্রিট এবং পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ নর্থওয়েস্টের সংযোগস্থলে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, হামলাকারী সিক্রেট সার্ভিসের একটি নিরাপত্তা চৌকি লক্ষ্য করে গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও সাংবাদিকরা কয়েক ডজন গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব উপলব্ধি করে এফবিআইও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি লিখেছেন, "হোয়াইট হাউস চত্বরের কাছে গোলাগুলির ঘটনার পর এফবিআই দল ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং সিক্রেট সার্ভিসকে পূর্ণ সহযোগিতা করছে। আমাদের কাছে কোনও সুনির্দিষ্ট তথ্য আসা মাত্রই আমরা জনসাধারণকে তা জানাব।"
এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ভেতরেই ছিলেন। জানা গেছে, তিনি ওভাল অফিস থেকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইসজরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে ইরানের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ফোনে কথা বলছিলেন।
গুলি চালানোর পরপরই, অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত সিক্রেট সার্ভিসের কর্মীরা নর্থ লন জুড়ে ছড়িয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তা বেষ্টনী আরও জোরদার করেন। এএফপি সংবাদ সংস্থার একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ন্যাশনাল গার্ডের সৈন্যরা পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলেছে এবং কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
ঘটনার পর হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে থাকা সংবাদমাধ্যমকর্মীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্ট সেলিনা ওয়াং ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি ভিডিও শেয়ার করে সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তটির বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি হোয়াইট হাউসের নর্থ লন থেকে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য একটি ভিডিও রেকর্ড করছিলাম, এমন সময় হঠাৎ কয়েক ডজন গুলির শব্দ শোনা যায়। আমাদের সঙ্গে সঙ্গে হোয়াইট হাউস প্রেস ব্রিফিং রুমের ভেতরে দৌড়ে যেতে বলা হয়।"
এমনকি ব্রিফিং রুমের ভেতরেও সাংবাদিকদের নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে বলেন, “নিচে শুয়ে পড়ুন, গোলাগুলি হচ্ছে!” প্রায় এক ঘন্টা স্থায়ী এই কঠোর লকডাউন সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটের দিকে তুলে নেওয়া হয়। এরপর সাংবাদিকদের বাইরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়।
হোয়াইট হাউসের কাছে এই গুলির ঘটনাটি মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ গত এক মাসের মধ্যে এটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর দ্বিতীয় বড় ধরণের নিরাপত্তা লঙ্ঘন বা হামলা। গত ২৫শে এপ্রিল ওয়াশিংটন হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারেও একই ধরণের একটি সহিংস ঘটনা ঘটেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কোল থমাস অ্যালেন নামের এক সন্দেহভাজন বন্দুক নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী ভাঙার চেষ্টা করে। সে সময় ট্রাম্পকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে এফবিআই এবং সিক্রেট সার্ভিস এই নতুন হামলার পেছনের ষড়যন্ত্র এবং হামলাকারীর উদ্দেশ্য নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালাচ্ছে।

No comments:
Post a Comment