কলকাতা: বাংলায় প্রথমবার পদ্ম ফুটেছে। বিপুল জনাদেশ নিয়ে সরকার গঠনের পথে বিজেপি। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে এখনও ইস্তফা দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে, তার আগেই মমতার বাড়ির সামনে থেকে সরল গার্ডরেল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে নিরাপত্তা কমাল কলকাতা পুলিশ।
কলকাতা হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, ৩০ বি, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পৈত্রিক ভিটে। এই বাড়ি থেকেই তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। মুখ্যমন্ত্রী হয়েও এই বাড়িতেই তাঁর বসবাস। আদি গঙ্গার পাশে কালীঘাটের পৈতৃক বাড়িটি। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে উত্থান পতনের সাক্ষী এটা। বহু পরিবর্তন হলেও পৈত্রিক বাড়ি পরিবর্তন করতে চাননি মমতা। এখন পর্যন্ত খুব বেশি বদল হয়নি সেই বাড়ির। কিন্তু সোমবারের পরে এই বাড়ির চত্বরের পরিবেশ বদলে গিয়েছে। একসময় সেখানে থাকত কড়া নিরাপত্তা। আজ সেখানে সেই নিরাপত্তার ছোঁয়াও নেই।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে প্রতিদিন শ'য়ে শ'য়ে মানুষ একাধিক সমস্যা নিয়ে হাজির হতেন। রাস্তাটাও অত্যন্ত সরু। তাঁর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কড়া পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবার তা সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পরেই এত নিরাপত্তা ছিল না। ২০১৬-র পর মমতার বাড়ির নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়। বাড়ির সামনের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। গার্ডরেল পেরিয়ে ঢুকতে হতো তাঁর বাড়িতে। এবার সেটাও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে আংশিকভাবে। মঙ্গলবার, পুলিশ কর্মীদের নীল-সাদা গার্ডরেলগুলি সরাতে দেখা গেছে। এখন আর সেভাবে বাঁধা থাকছে থাকছে না সাধারণের এই পথে প্রবেশে।
কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে যদিও কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি, তবে ঘটনাস্থলের একটি কিয়স্কে বাহিনীর এক আধিকারিক জানান যে, মঙ্গলবার সকালে তাঁদের স্মার্ট ব্যারিকেডগুলি সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
সবসময় নিরাপত্তা বেষ্টনিতে ঘেরা থাকত হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এই বাড়ি। আজ সেখানে গেলে বোঝার উপায় নেই এটাই একসময় দুর্গের মতো পাহারা দেওয়া হতো। তবে, গার্ডরেল উঠে গেলেও গলির মুখের পুলিশি পাহারা এখনও রয়েছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও এই হার মানতে নারাজ তিনি। মমতার অভিযোগ, বিজেপি ১০০-র বেশী ভোট লুট করেছে।

No comments:
Post a Comment