নদিয়া: রাজ্যে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। আর তৃণমূল হারতেই নিজেদের দলীয় কার্যালয় দখলমুক্ত করল কংগ্রেস। ঘটনা নদিয়ার করিমপুর ২ নম্বর ব্লকের নতিডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের। মঙ্গলবার নিজেদের দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধার করে নেয় কংগ্রেস।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের গণনার পর দেখা যায়, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। নদিয়াতে ১৭টি বিধানসভার মধ্যে ১৪ টি আসনে জয়ী হয় বিজেপি এবং তিনটি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল সরকার পড়ে যেতে এবার নিজেদের দলীয় কার্যালয় দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধার করে নিল কংগ্রেস।
অভিযোগ, রাজ্যের তৃণমূল সরকার আসার পর কংগ্রেসের ওই দলীয় কার্যালয় জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা। এবারে করিমপুরের প্রার্থী পূজা রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা আবারও সেই দলীয় কার্যালয় নিজেদের দখলে নিল।
উল্লেখ্য ২০১১ সালে রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে বাংলার মসনদে বসে তৃণমূল কংগ্রেস। নেতৃত্বে ছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে তিনি মুখ্যমন্ত্রী হন। এরপর থেকেই বহু কংগ্রেস এবং সিপিএমের কার্যালয় তৃণমূল কর্মীরা দখল করে নেয় বলে অভিযোগ ওঠে। এতদিন বলপূর্বক দখল করে রাখা সেই কার্যালয় থেকেই কাজ চলাতেও তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা।
৪ঠা মে ভোট গণনা হওয়ার পর দেখা যায় ২০০টির বেশি আসন নিয়ে বাংলায় ক্ষমতায় আসে বিজেপি। সরকার পরিবর্তন হতেই করিমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী তথা নেত্রী পূজা রায় চৌধুরী নেতৃত্বের সেই কার্যালয় তৃণমূল কংগ্রেসের কাছ থেকে নিজেদের কাছে দখলে নিল কংগ্রেস। কার্যালয় থেকে তৃণমূল কংগ্রেস লেখা মুছে দেন তাঁরা। সেখানে কংগ্রেসের নতুন ব্যানার লাগিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় করিমপুর থানার পুলিশ। পুলিশ বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কি শুরু হয় কংগ্রেস কর্মীদের। যদিও পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ বিষয়ে কংগ্রেস প্রার্থী তথা নেত্রী পূজা রায় চৌধুরী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল আমাদের এই দলীয় কার্যালয় দখল করে রেখেছিল। আজ সমস্ত কংগ্রেস কর্মীদের সিদ্ধান্তে সেই দলীয় কার্যালয় আমরা পুনরুদ্ধার করলাম।'


No comments:
Post a Comment