কলকাতা: ফলতায় ২১ শে মে পুনর্নির্বাচন। এর মাত্র দু'দিন আগেই ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন পুষ্পা অর্থাৎ তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, এই ভোট তিনি আর লড়বেন না। একদিকে ফলতার উন্নয়নের কথা জাহাঙ্গীর খানের মুখে, অন্যদিকে ফলতা নিয়ে শুভেন্দুর প্যাকেজ ঘোষণা। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, জাহাঙ্গীরের এই সিদ্ধান্ত কি তাঁর ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নাকি দলের সিদ্ধান্ত? সমাজমাধ্যমে আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী প্রশ্ন তুলেছেন, 'ফলতার নির্বাচনে থেকে সরে দাঁড়ালেন জাহাঙ্গীর খান! স্বেচ্ছায় না বিজেপিকে বার্তা? না তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বোঝাপড়া?' এর কিছু পরেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস।
সমাজমাধ্যম পোস্টে তৃণমূলের তরফে লেখা হয়, "ফলতা পুনঃনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর যে সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গীর খান নিয়েছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, দলের নয়।' সেইসঙ্গেই তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, '৪ঠা মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে শুধু ফলতা বিধানসভাতেই আমাদের দলের শতাধিক কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দিনের আলোয় ভয় দেখিয়ে দলের বেশ কয়েকটি কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জোরপূর্বক দখল করা হয়েছে। অথচ বারবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে। এইসব চাপের মুখেও আমাদের কর্মীরা অটল রয়েছেন এবং বিভিন্ন সংস্থা ও প্রশাসনের মাধ্যমে বিজেপির চালানো ভয়ভীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে, শেষ পর্যন্ত কেউ কেউ চাপের কাছে নতি স্বীকার করে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলা বিরোধী বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে-পশ্চিমবঙ্গে এবং দিল্লীতে দু'জায়গাতেই।'
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান বলেন, 'আমি ফলতার ভূমিপুত্র। এই মাটির মানুষের পাশে সবসময় থেকেছি, আগামীতেও থাকব। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘাত বা অশান্তি সৃষ্টি করে নয়, মানুষের উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। তাই সাধারণ মানুষের শান্তি বজায় রাখতে আমি এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফলতার উন্নয়নের জন্য বিশেষ প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেজন্য ২১ মে পুননির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম। সোনার ফলতা হোক, এটাই আমার স্বপ্ন ছিল।'



No comments:
Post a Comment