আক্রান্ত কল্যাণের বাড়িতে মমতা! 'দিল্লীর প্রশ্রয়েই কি এই তাণ্ডব?'- প্রশ্ন তৃণমূল সুপ্রিমোর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, May 31, 2026

আক্রান্ত কল্যাণের বাড়িতে মমতা! 'দিল্লীর প্রশ্রয়েই কি এই তাণ্ডব?'- প্রশ্ন তৃণমূল সুপ্রিমোর


কলকাতা: পথে নেমে আক্রান্ত তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আহত সাংসদকে দেখতে তাঁর বাড়িতে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করছে বিজেপি। উল্লেখ্য, রবিবার সকালে চণ্ডীপুর থানায় স্মারকলিপি জমা দিতে গেলে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় একদল উত্তেজিত জনতা। সাংসদকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয় তাকে কালো পতাকা দেখানো হয়, পাশাপাশি ঢিলও ছোড়া হয়। মাথায় আঘাতে রাস্তায় লুকিয়ে পড়েন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রক্তাক্ত হন তিনি তাঁর অভিযোগ বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। 


এদিন তিনটে নাগাদ কল্যাণের বাড়িতে যান মমতা। দলীয় সূত্রের খবর, কীভাবে হামলা, কত জন হামলাকারী ছিলেন, কোথায় চোট লেগেছে, আঘাত কতটা গুরুত্বর, সবটাই খোঁজ নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।


এরপর এদিন সমাজমাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, "বাংলায় বিরোধী কণ্ঠরোধ ও বিজেপির হিংস্র রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বাংলায় রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ও হিংসার এক চরম রূপ দেখছে দেশবাসী। গতকাল লোকসভার সংসদীয় দলনেতা শ্রী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কাপুরুষোচিত হামলার পর, আজ লোকসভার আমাদের চিফ হুইপ শ্রী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। একের পর এক বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের টার্গেট করে এই ধরণের আক্রমণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, অমানবিক এবং গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত।"


তিনি লেখেন, "আজ আক্রান্ত সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিলাম। বিজেপির এই ধারাবাহিক হিংসাত্মক আচরণের বিরুদ্ধে আমি তীব্র ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"


তাঁর প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা কোথায়? দেশের সংসদের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও প্রবীণ আইনপ্রণেতারাও যদি সুরক্ষিত না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?"


মমতার দাবী, বাংলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারা স্বতঃস্ফূর্ত জনরোষের ভুয়ো অজুহাত দিয়ে নিজেদের দলীয় দুষ্কৃতীদের রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছে। "দিল্লীর প্রশ্রয়েই কি এই তাণ্ডব? "নতুন ভারতের" দোহাই দিয়ে বিরোধীদের ওপর এই ধরনের শারীরিক আক্রমণ কি দিল্লির শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রচ্ছন্ন মদতেই ঘটছে?"- প্রশ্ন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর। তিনি লেখেন, "তীব্র ধিক্কার জানাই এই অমানবিক ও ফ্যাসিবাদী মানসিকতাকে!


তৃণমূল সুপ্রিমোর বার্তা, "বাংলা চিরকালই সংস্কৃতি, সৌজন্য ও সুস্থ রাজনীতির পীঠস্থান। এখানে গুন্ডামি এবং হিংসার কোনও স্থান নেই। আমি এই কাপুরুষোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে রাজপথে এবং আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব।" 


উল্লেখ্য, শনিবার সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে লক্ষ্য করে ইট, পাথর, ডিম, জুতো ছোঁড়া হয়। এমনকি তাঁর গায়েও হাত তোলা হয়। এই অবস্থা থেকে বাঁচতে তৃণমূল সাংসদের মাথায় হেলমেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ব্যাপক জনরসের কবল থেকে পরবর্তীতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে অভিষেককে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। আর এদিন কল্যাণের ওপর এই হামলার ঘটনা নিয়েও বিজেপিকেই কাঠগড়ায় তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad