কলকাতা: গল্ফগ্রিন এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে উদ্ধার জোড়া মৃতদেহ। রবিবার দুপুরে মৃত দুই যুবক-যুবতীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মৃতদের নাম মহম্মদ দিলশাদ এবং মোহলি সান্যাল। গত এপ্রিল মাসে এই ফ্ল্যাট টি দুজনে ভাড়া নেয়। রহস্যজনক ভাবে ওই ফ্ল্যাট থেকেই অপর এক যুবক ও যুবতীকে এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মৃত দিলশাদের বাড়ি তিলজলা এলাকায়। অন্যদিকে মৃত মোহলির বাড়ি রামগড় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, দিলশাদের বয়স আনুমানিক ২৬ বছর এবং মৃত যুবতীর বয়স ২১ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, গত এপ্রিল মাসে দিলশাদ গলফ গ্রিনের ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী, মাঝেমধ্যেই ফ্ল্যাটটিতে পার্টি হত।
ওই ফ্ল্যাটের মালিকের দাবী, মাস দু'য়েক আগে দিলশাদ ওই এলাকায় এসে ফ্ল্যাটের খোঁজ করছিলেন। তখন রাস্তাতেই তাঁর সঙ্গে দিলশাদের দেখা হয়। তিনিও নিজে ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে আগ্রহী ছিলেন। ফলে কথাবার্তার পর তিনি ফ্ল্যাটটি ভাড়ায় দিয়ে দেন।
এদিন জোড়া মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ওই ফ্ল্যাট থেকেই তাঁদের আরও দুই সঙ্গীকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবী, আটক হওয়া দু জন যুবক-যুবতীও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। পুলিশ সূত্রে খবর, এদিন সকালে ওই ফ্ল্যাট থেকে পচা গন্ধ বেরোতে থাকে। ফ্ল্যাটের অন্যান্য বাসিন্দারাই ১০০ ডায়ালে ফোন করে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ দরজা ঠেলে ফ্ল্যাটের ভিতরে ঢুকতেই দেখে মেঝেতে দিলশাদ এবং মোহলির দেহ পড়ে আছে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ফ্ল্যাটের ভিতরেই ছিলেন তাঁদের আরও দুই সঙ্গী।
পুলিশের তরফে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হয় এবং ফরেন্সিক তদন্তের প্রস্তুতি শুরু হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে লালবাজারের হোমিসাইড শাখার গোয়েন্দারাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্তভার হাতে নেন। তদন্তকারীদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ, মৃতদেহে বাইরে থেকে আঘাতের কোনও স্পষ্ট চিহ্ন মেলেনি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। সেই কারণেই ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ফ্ল্যাটের ভিতরে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী, খাবারদাবার, পানীয় এবং অন্যান্য বস্তু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও নমুনা পরীক্ষা করে দেখবেন।
অতিরিক্ত মদ্যপান বা নেশা করার কারণেই ওই যুবক-যুবতীর মৃত্যু হয়েছে, না কি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আটক দু'জনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে।

No comments:
Post a Comment