ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ৩০ মে ২০২৬: সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছেন এবং দুটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। দুই দেশের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে তাদের বাহিনী দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস অঞ্চলে অবস্থিত সেই মার্কিন বিমান ঘাঁটিটিকে নিশানা করেছে, যেখান থেকে গত রাতে হামলা চালানো হয়েছিল।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম অনুসারে, এই প্রতিশোধমূলক হামলাটি ছিল একটি "আগ্রাসী মার্কিন হামলার" বিরুদ্ধে। মার্কিন কর্তারাও এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন যে, গত ২৪ ঘন্টার মধ্যে ইরান কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যদিও কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রটিকে (ফাতেহ-১১০ নামের) মাঝ আকাশে প্রতিহত করে, এর ধ্বংসাবশেষ বিমান ঘাঁটির ভেতরে এসে পড়ে। এই ধ্বংসাবশেষ ও আংশিক আঘাতে মার্কিন সৈন্যরা আহত হন।
দুটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার স্ট্রাইক ড্রোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অন্য অন্তত একটি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের দাম প্রায় ৩ কোটি ডলার। রিপার ড্রোনগুলো মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা প্রধানত গোয়েন্দা নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট বিমান হামলার জন্য ব্যবহৃত হয়। এই ড্রোনগুলোর ক্ষতিকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা মনে করা হচ্ছে।
এরই মাঝে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার তাঁর সরকারি বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসে উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, কিন্তু যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
এদিকে, ইরানও জানিয়েছে যে, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি এই বিষয়ে একটি "চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত" নিতে চলেছেন। তবে, প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্তা পরে জানান যে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘন্টার বৈঠকটি কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই আধিকারিক বলেন, ট্রাম্প কেবল এমন একটি চুক্তিতেই অনুমোদন দেবেন যা তার "নির্ধারিত শর্ত" পূরণ করবে এবং ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করবে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের একদিন পর ট্রাম্প এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকটি করেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মার্কিন ও ইরানি আলোচকরা একটি প্রাথমিক চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন, যা বর্তমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিকে ৬০ দিনের জন্য বাড়িয়ে দেবে এবং ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে।

No comments:
Post a Comment