ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গোপন ভূমিকায় UAE! - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Saturday, May 30, 2026

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গোপন ভূমিকায় UAE!


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ৩০ মে ২০২৬: ইরান যুদ্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূমিকা আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাত যুদ্ধের একেবারে প্রথম দিনগুলো থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়েছিল, যা এপ্রিলে যুদ্ধবিরতির পরের দিন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের ওপর কয়েক ডজন বিমান হামলা চালিয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় যে, মার্কিন ও ইজরায়েলি নেতৃত্বাধীন এই অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পৃক্ততা আগে যা জানা ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি ছিল।


এখন পর্যন্ত মনে করা হচ্ছিল যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলই প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তবে, নতুন তথ্য থেকে জানা গেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই অভিযানে সরাসরি অংশগ্রহণ করে। প্রতিবেদন অনুসারে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুদ্ধবিমানগুলো বারবার ইরানের বিভিন্ন অবস্থানকে নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। যুদ্ধের শুরু থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কিছু সময় পর পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত ছিল।


যুদ্ধ চলাকালে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ২,৮০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ দেশটির পরিবর্তনশীল পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির ইঙ্গিত দেয়। পূর্বে উপসাগরীয় দেশগুলো সাধারণত আরও সতর্ক অবস্থান বজায় রাখত, কিন্তু এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত তার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য আরও সক্রিয় ও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ করতে ইচ্ছুক বলে মনে হচ্ছে।


প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল এই হামলাগুলো সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। বন্দর আব্বাস, কেশম ও আবু মুসা দ্বীপপুঞ্জ, লাভান দ্বীপের তেল শোধনাগার এবং আসালুয়েহ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সসহ ইরানের বেশ কয়েকটি কৌশলগত ও জ্বালানি স্থাপনাকে নিশানা করা হয়েছিল।


যদিও সংযুক্ত আরব আমিরাত আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিমান হামলাগুলোর সম্পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ করেনি, তবে তারা ইরানের তাদের ওপর চালানো হামলার সংখ্যা প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত মনে করে যে, এই অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের সরাসরি পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। এতে এও সংকেত মেলে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিষয়ে আরও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে চায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad