কলকাতা: ভোটের ফল ঘোষণার পরের দিনই জানিয়েছিলেন তিনি পদত্যাগ করবেন না। বুধবারও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন জয়ী প্রার্থীদের সঙ্গে কালীঘাটে বৈঠক করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। স্পষ্ট জানিয়ে দেন, "আমি গিয়ে পদত্যাগ করব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক। রেকর্ড থাকুক।” এর পাশাপাশি, নতুন সরকারের শপথের দিন দলীয় কার্যালয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজানোর নির্দেশও দেন মমতা।
তৃণমূলের সূত্রের খবর, বৈঠকে মমতা বলেন, "আমি পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। রাষ্ট্রপতি শাসন করলে করুক। রেকর্ড থাক। আমাকে বরখাস্ত করলে করুক। বরখাস্ত হলে কালো দিন হিসেবে রেকর্ড থাক।"
পাশাপাশি এদিনের বৈঠকে দলের সকলকে আরও একজোট হয়ে চলার বার্তা দেন দলনেত্রী। ভোটের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের মত, এমন ভরাডুবির নেপথ্যে রয়েছে অন্তর্ঘাত। সেকথা মাথায় রেখে এদিন মমতা বলেন, “যে বা যারা অন্তর্ঘাত করছে তাঁদের নাম দিন।” দল যে ভিতর থেকে ক্ষয় হচ্ছে, তার আভাস বোধহয় পেয়েছেন মমতা। তবে তিনি বরাবরের 'লড়াকু' নেত্রী। আর এই দুঃসময়েও তাঁর আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়েনি। তিনি মনে করেন একদিন না একদিন দল ঠিক ঘুরে দাঁড়াবেই। তাঁর বক্তব্য, “আমিও একসময় একা ছিলাম। ঘুরে দাঁড়িয়েছি। দল ঘুরে দাঁড়াবেই।
নির্বাচনে এবারে নিরঙ্কুশ জয় হাসিল করেছে বিজেপি।২০৭ টা আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পথে পদ্ম শিবির। কিন্তু এই ফলাফল মেনে নিতে নারাজ মমতা। আগামী দিনে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনাও রয়েছে তাঁর। তৃণমূল সূত্রে খবর, এ দিনের বৈঠকে মমতা জানান, ১০০টির বেশি আসনে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হবেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
এবারে নির্বাচনে ভবানীপুর আসন থেকে হেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কর্মব্যস্ততার পরে এখন হাতে অনেকটাই সময়। রাজনীতির পাশাপাশি আইনজীবী তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন বলে এ দিন জয়ী প্রার্থীদের সভায় জানান তিনি। মমতা এই বিষয়ে বলেন, "আদালতে আমি, চন্দ্রিমা আবার আদালতে প্র্যাকট্রিস করব। নানা মামলা যা হচ্ছে আমি, চন্দ্রিমা, বিপ্লব মিত্র, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই আইনজীবী হিসাবে দেখব।” উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সাধারণ মানুষের স্বার্থে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নিজে সওয়াল করেন মমতা।
প্রসঙ্গত, জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে বুধবার বিকেলে কালীঘাটে বৈঠক করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:
Post a Comment