ন্যাশনাল ডেস্ক, ০৬ মে : আসাম নির্বাচনে বিজেপি-এনডিএ জোট টানা তৃতীয়বার জয় পেয়েছে। নির্বাচনের পর প্রথমবার আজ তক (হিন্দি)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন যে, তাঁরা আসামে অনুপ্রবেশকারীদের কোমর ভেঙে দেবেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকার হল রাজ্যকে সুরক্ষিত করা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
পদত্যাগ করতে রাজভবনে যাবেন কিনা জানতে চাইলে মমতা স্পষ্ট জানান, তিনি যাবেন না। কোনও প্রশ্নই ওঠে না পদত্যাগের। তিনি বলেন, আমরা হারিনি। জোর করে হারানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "এটা ভালো। উনি যদি রাজভবনে যেতেন, তাহলে তাঁকে এক কাপ চা আর সন্দেশ খাওয়ানো হতো। এখন রাজভবনের চা আর সন্দেশ বেঁচে যাবে, আর তাঁকে বরখাস্ত করা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যান বা না যান, গাড়ি থামবে কী! শপথগ্রহণ তো ৯ই মে হতে চলেছে।" তবে, বাংলায় পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, সেই প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে যান।
উল্লেখ্য, এর আগে, বুধবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে নবনির্বাচিত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক করেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার ভাবনা রয়েছে বলে এই বৈঠকে জানান তৃণমূল সুপ্রিমো। রাজ্যে ২০০-র বেশি আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় পাওয়া ভারতীয় জনতা পার্টি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ তোলেন মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন যে, "আদালতে আমি, চন্দ্রিমা আবার আদালতে প্র্যাকট্রিস করব। নানা মামলা যা হচ্ছে আমি, চন্দ্রিমা, বিপ্লব মিত্র, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় সবাই আইনজীবী হিসাবে দেখব।” উল্লেখ্য, এর আগে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সাধারণ মানুষের স্বার্থে এসআইআর মামলায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে নিজে সওয়াল করেন মমতা।
বাংলায় এই ভরাডুবি সত্ত্বেও, তিনি দিল্লীতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কে শক্তিশালী করার দিকেই মনোনিবেশ করে আছেন, বলেই জানান মমতা।

No comments:
Post a Comment