'কর্মফল খুব শক্ত ভাবে কামড়ায়', তৃণমূল হারতেই বিস্ফোরক অভিনেতা সৌরভ - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, May 6, 2026

'কর্মফল খুব শক্ত ভাবে কামড়ায়', তৃণমূল হারতেই বিস্ফোরক অভিনেতা সৌরভ


বিনোদন ডেস্ক, ০৬ মে ২০২৬: 'হিসেব চুকিয়ে দেওয়া প্রয়োজন', তৃণমূলের রাজত্ব খান-খান হতেই ফুঁসে উঠলেন অভিনেতা সৌরভ দাস। সমাজমাধ্যমে লম্বা-চওড়া পোস্ট করেন অভিনেতা। পাশাপাশি 'বেঙ্গল ফাইলস'- নিয়েও সরব হন তিনি। উল্লেখ্য, বাংলায় নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার একদিন পরেই অর্থাৎ ৫ই মে চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দেন। স্মরণ করিয়ে দেন নিষিদ্ধ 'বেঙ্গল ফাইলস'-এর কথা। এদিন সমাজমাধ্যমে নিজের স্টোরিতে বিবেক অগ্নিহোত্রীর সেই পোস্ট শেয়ার করেছেন অভিনেতার সৌরভ। সেইসঙ্গে, তিনি লিখেছেন, রি-রিলিস 'বেঙ্গল ফাইলস'।


ভোটের ফল ঘোষণার একদিন পর সমাজমাধ্যমে করা পোস্টে প্রথমেই সৌরভ লিখেছেন, "হিসেব চুকিয়ে দেওয়া প্রয়োজন, আর তাই এই পোস্ট।" সৌরভ লিখেছেন, "দাদা, মানুষজনকে ফোন করে এবার বলো দেখি, 'সৌরভকে কাস্ট কোরো না। ওকে বাদ দাও। ওকে কোনও প্রোজেক্টে নিও না, কোনও ব্যান্ড দিও না। সাহস কীভাবে হয়, গোপাল পাঁঠা করবে?' যে মানসিক অত্যাচারের মধ্যে দিয়ে আমি গিয়েছি, হুমকি পেয়েছি, আমি যে কাজটা সবচেয়ে ভালো পারি, সেটা থেকেই আমায় নিষিদ্ধ করে রাখা! আমি ভয় পেয়েছি, উপার্জন করব কীভাবে? আমি একেবারে শূন্য থেকে শুরু করেছি, আমার গোটা পরিবার তো আমারই উপার্জনের দিতে তাকিয়ে রয়েছে। তারপরে আমার মুম্বই যাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে সিনেমাটা দেখা আর এটা ভেবে কষ্ট পাওয়া, চোখে জল আসা যে, আমার পরিবার আমার প্রথম বলিউডের কাজ উদযাপন করতে পারল না। আমার পরিবারের লোকেদের টাটানগরে যেতে হয়েছিল, শুধু সিনেমাটা দেখার জন্য। যাঁরা আমার অনুরাগী, তাঁরা আমার কাজটাই দেখতে পাননি।


তিনি লেখেন, "এই কথাগুলো অনেকদিন ধরেই বলার বাকি ছিল। বিশ্বাস করুন, সাধারণ পরিবার থেকে এসে জাতীয় চলচ্চিত্রের পোস্টারে জায়গা পাওয়াটা আমার জন্য এক বিরাট অর্জন। বহু ত্যাগ ও কষ্টের এক পথচলা।"


সৌরভ আরও লিখেছেন, "আমার কাজকে এতটা প্রশংসা করার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানানোর এটাই সময়। সেই অগণিত রিলগুলো (যেগুলো আমি দেখেছিলাম কিন্তু রিপোস্ট করতে পারিনি) শেয়ার করার জন্য। অনুপম খের স্যারকে ধন্যবাদ জানাই, আমায় ফোন করে আশীর্বাদ করেছিলেন। যার অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।"


তিনি লেখেন, "প্রিমিয়ারে না যেতে পারার কষ্টটা এখনও রয়েছে। এখনও রয়েছে প্রিমিয়ার এবং অসংখ্য জাতীয় মিডিয়ার সাথে আলাপচারিতায় অংশ নিতে না পারার কষ্ট। আমার মনে আছে, সিনেমা দেখে থিয়েটার থেকে বেরোনোর পর আমি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করেছিলাম। আমি আমার হতাশাটা বের করে দিয়েছিলাম এবং তারপর সেই হোডিংয়ের নিচে একটা ছবি তুলেছিলাম যেখানে আমার মুখ ছিল। আমি এই বিশাল ব্যক্তিত্বের চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছি বলে খুব গর্বিত। আহ্... কী শান্তি।"


অভিনেতা লিখেছেন, "বিশ্বাস করো, কর্মফল সত্যি, খুব শক্ত ভাবে কামড়ায়। আমি চাই, 'বেঙ্গল ফাইলস এখানে বাংলায় পুনরায় মুক্তি পাক। শিল্পের সাথে আপোষ করা উচিৎ নয়। আর হ্যাঁ, সত্যিই ৩ দিনের স্লাইডস দেওয়া হয়েছিল, ৩ দিনের চিত্রনাট্য দেওয়া হয়েছিল। পুরো চিত্রনাট্য দেওয়া হয়নি। কেনই বা দেবে? দিলে বলেই দিতাম আজ। এতদিন না হয় কারণ ছিল।" অভিনেতা কিছু ছবিও পোস্ট করেছেন এই লেখাটির সঙ্গে। 


উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন থেকে বিনোদন জগতে কাজ করছেন সৌরভ, তবে কখনও তাঁকে ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে দেখা যায়নি। কিন্তু 'দ্য বেঙ্গল ফাইলস'এ অভিনয় করে, স্পষ্টতই বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন তিনি। বিবেক অগ্নিহোত্রী পরিচালিত এই ছবিটি কার্যত চলতেই দেওয়া হয়নি বাংলায়। এই সিনেমার প্রচার ও বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন বিবেক অগ্নিগোত্রী। গুঞ্জন ছিল, এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য নাকি একাধিক কাজ হাতছাড়া হয়েছে অভিনেতা সৌরভ দাসের। তবে, রাজ্যে পালাবদল হতেই বোমা ফাটালেন সৌরভ। 


প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা বিবেক অগ্নিহোত্রী। সমাজমাধ্যম পোস্টে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন তিনি। তিনি লেখেন, "আর না। যারা জানেন না, তাঁদের জন্য বলছি, দ্য কাশ্মীর ফাইলস মুক্তি পাওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বাংলায় নিষিদ্ধ করেছিলেন। সিনেমা হলগুলো থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং তিনি বলেছিলেন আমাকে বাংলায় ঢুকতে দেওয়া হবে না। গত বছর, তিনি পশ্চিমবঙ্গে দ্য বেঙ্গল ফাইলস পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দিয়েছিলেন। আমাদের ট্রেলার লঞ্চ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছিল এবং মারধর করা হয়েছিল। আমার বিরুদ্ধে ডজন ডজন এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। আমাকে বাংলায় নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আমি রাজ্যপালের কাছ থেকে আমার পুরস্কার নিতেও যেতে পারিনি।"


চলচ্চিত্র নির্মাতা আরও লিখেছেন, "কিন্তু আমরা কখনও হাল ছাড়িনি। এই নির্বাচনের সময় আমরা নিশ্চিত করেছিলাম যে বাংলা জুড়ে যত বেশি সম্ভব মানুষের কাছে দ্য বেঙ্গল ফাইলস (গোপনে) দেখানো হয়। আমি আনন্দিত যে আমরা হাল ছাড়িনি এবং আমাদের নিজেদের ক্ষুদ্র সামর্থ্য দিয়ে হলেও লড়াই করেছি এবং অবশেষে... এই বিরাট বিজয়। বাংলার মহান জনগণকে অভিনন্দন। এখন আপনারা নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে চলতে পারেন।"

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad