অভিষেকের পর কল্যাণ! পথে নেমে আক্রান্ত তৃণমূল সাংসদ, লুটিয়ে পড়লেন রাস্তায় - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, May 31, 2026

অভিষেকের পর কল্যাণ! পথে নেমে আক্রান্ত তৃণমূল সাংসদ, লুটিয়ে পড়লেন রাস্তায়


হুগলি: অভিষেকের পর আক্রান্ত কল্যাণ। পথে নেমে জনরোষের মুখে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মাথায় আঘাত পেয়ে ঝরল রক্ত। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেন সাংসদ। হুগলির চণ্ডীতলা থানায় রবিবার সকালে স্মারকলিপি জমা দিতে যাওয়ার সময় তৃণমূল সাংসদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে ঘিরে কালো পতাকা দেখানো এবং চোর চোর স্লোগান দেন একদল বিক্ষুব্ধ জনতা। এমনকি চর-থাপ্পড়ও লাগে তাঁর গায়ে, দূর থেকে ঢিল ছোড়া হয় তাঁকে উদ্দেশ্য করে। এতে করে মাথায় চোট লাগে কল্যাণের। এই ঘটনায় শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। 


এই ঘটনায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে এক হাত নিয়েছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরাই এই হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার বিজেপির।


সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধয়ায়ের ওপর আক্রমণের প্রতিবাদে এদিন চণ্ডীতলায় প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন কল্যাণ। তিনি কয়েকজন দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে চণ্ডীতলা থানায় যাচ্ছিলেন স্মারকলিপি জমা দিতে। সেই সময় তৃণমূল সাংসদকে ঘিরে ঘরে তুমুল বিক্ষোভ শুরু হয়। সাংসদকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। তাঁকে লক্ষ্য করে ঢিল পর্যন্ত ছোড়া হয়। মাথায় আঘাত পেয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন কল্যাণ। ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।


শ্রীরামপুরের সাংসদের অভিযোগ করেন, চণ্ডীতলা থানায় ডেপুটেশন জমা দিতে যাওয়ার সময় তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে কল্যাণ বলেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানাতে যাওয়া মানুষদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। তাঁদের প্রায় সব নেতা-কর্মীদের ওপর এভাবে হামলা চালানো হচ্ছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই এই ঘটনা ঘটলেও তারা কোনও ভূমিকা পালন করেননি।


কল্যাণ বলেন, "আমি কাউকে নিয়ে আসিনি। একা একা আসছিলাম, সেই সময় মোড়ের সামনে বিজেপি কর্মীরা কী বল ছুড়েছে জানি না। ডিউজ বল নাকি অন্য কিছু। আমার মাথা দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। আমার আর বলার মতো শক্তি নেই। চণ্ডীতলার মানুষই বিচার করুন।"


উল্লেখ্য, শনিবারেই সোনারপুর গিয়ে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়েন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে লক্ষ্য করে ইট-পাথর, জুতোর-ডিম ছোড়া হয়। চড়-ঘুষিও জুটেছিল। এমনকি জামা পর্যন্ত ছিড়ে যায় তৃণমূল সাংসদের। পরবর্তীতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে‌। এই ঘটনা ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। ঘটনার ২৪ ঘন্টা কাটতে না কাটতেই পথে নেমে এবারে আক্রান্ত হলেন তৃণমূলের আরও এক সাংসদ।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad