কলকাতা: গণনা নিয়ে কাটছে না জট, এবারে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূল। বিধানসভা নির্বাচনের গণনা তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়োগ করার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে, তারা কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু, সেই আর্জি খারিজ করে দেয় আদালত এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখে। এই রায়ের বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে। আর ৪ঠা মে যেহেতু ভোট গণনা, তাই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, শনিবার এই মামলার শুনানি হবে এবং জন্য সুপ্রিম কোর্ট একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছে। এই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি পি.এস. নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। ২রা মে সকাল সাড়ে ১০টায় এই মামলার শুনানি হবে।
এর আগে কলকাতা হাইকোর্ট, তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদন খারিজ করে দেয়। বিচারপতি কৃষ্ণরাও জানান যে, ভোট গণনার তত্ত্বাবধায়ক ও সহকারী হিসেবে রাজ্য বা কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের নিয়োগ করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে। এতে কোনও বেআইনি কিছু নেই। ২৯৪ সদস্যের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা হবে ৪ মে।
তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা বিজেপির দ্বারা প্রভাবিত হতে পারেন, কিন্তু আদালত এই আশঙ্কা খারিজ করে দিয়েছে। হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, গণনা কক্ষে মাইক্রো-অবজারভার, প্রার্থীদের গণনা এজেন্ট এবং অন্যান্য কর্মীরা উপস্থিত থাকেন, তাই কোনও অনিয়মের সম্ভাবনা নেই। নির্বাচন আধিকারিকরা আদালতকে জানিয়েছেন যে, এই নিয়োগ প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুসারেই করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মচারী মোতায়েনের উদ্দেশ্য হল নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এড়ানো।
তৃণমূলের আবেদনে পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ৩০শে এপ্রিল জারি করা একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যেখানে বলা হয়েছিল যে প্রতিটি টেবিলে অন্তত একজন সুপারভাইজার বা সহকারী কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। তৃণমূলের তরফে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন যে, এই আদেশটি তাঁর এখতিয়ারের বাইরে এবং শুধুমাত্র আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করে জারি করা হয়েছে। ফলস্বরূপ, সুষ্ঠু ফলাফল প্রভাবিত হতে পারে।
এরই মাঝে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেছেন যে, গণনা কেন্দ্রগুলিতে কোনও অনিয়মের সুযোগ নেই এবং স্ট্রং রুমগুলি সিসিটিভির মাধ্যমে দিনে ২৪ ঘন্টা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভবানীপুর নির্বাচনী এলাকার স্ট্রং রুমে বৃহস্পতিবার ছুটে যান এবং প্রায় ৪ ঘন্টা পর বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি এদিন ইভিএম কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করার একদিন পরই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এই বিবৃতিটি আসে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতার দুটি গণনা কেন্দ্রের চারপাশে যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শহরের সাতটি স্ট্রং রুমের বাইরে ১৪৪ ধারা জারি করেছে।

No comments:
Post a Comment