'আইন হাতে তুলে নেবেন না', নাম না নিয়েই অভিষেক কাণ্ডে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Monday, June 1, 2026

'আইন হাতে তুলে নেবেন না', নাম না নিয়েই অভিষেক কাণ্ডে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর


কলকাতা: শনিবার সোনারপুরে গিয়ে চরম বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিম-ইট-জুতো ছোড়া শুধু নয়, তাঁর গায়ে পর্যন্ত হাত তোলা হয়। জামাও ছিঁড়ে দেওয়া হয়। চরম বিক্ষোভের মুখে হেলমেট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় অভিষেককে। নাম না করে সেই ইস্যুতে সোমবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি বলেন, "আমজনতার ক্ষোভ আছে। তৃণমূলের নেতা-বিধায়ক-সাংসদরা জনরোষের মুখে পড়ছেন। কিন্তু আমি বলব, আইন হাতে তুলে নেবেন না।"


তিনি বলেন, "পুলিশ রয়েছে, তাঁদের নিজেদের কাজ করতে দিন।” এরপর অবশ্য তৃণমূলকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, "একটা উঠে যাওয়া পার্টি, ফলতায় চতুর্থ হয়েছে। বাংলার রাজনীতিতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। দলের যারা দুর্নীতি করছে, তাঁদের সকলের শাস্তি হবে। আপনারা কেউ আইন হাতে নেবেন না।”


রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মারধর, হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। জোড়া ফুল শিবিরের দাবী বিজেপি রয়েছে এই হামলার নেপথ্যে। যদিও শাসক শিবিরের নেতারা বারবার দাবী করে আসছেন, তাঁদের কর্মীরা কোনও অশান্তির সঙ্গে জড়িত নয়। এমনকি যদি দলের কেউ কিছু করে থাকে তাঁদের গ্রেফতারের নির্দেশও দিয়েছেন। দাবী, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষয়টা জনরোষের। তৃণমূল নেতাদের সামনে পেলেই দীর্ঘদিনের চেপে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। এরই পরিণতি এসব। 


শনিবার সোনারপুরেও অভিষেককে ব্যাপক জনরোষের মধ্যে পড়তে হয়। ভোট পরবর্তী হিংসায় তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের মৃত্যুর দাবী করা হয়েছে দলের তরফে। এদিন সেই কর্মীর পরিবারের সঙ্গেই দেখা করতে যান তৃণমূল সাংসদ। কিন্তু কপালে জোটে চোর স্লোগান। গায়ে ছোড়া হয় ডিম, জুতো। শারীরিক হেনস্তার অভিযোগ পর্যন্ত ওঠে। পরবর্তীতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। স্থানীয়রাই বলছেন অন্য কথা। এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধেই আঙ্গুল তুলেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 


এদিকে, সোনারপুরে যেই মৃত দলীয় কর্মীর বাড়ি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছিলেন, সেখানকার স্থানীয়দের দাবী, ওই যুবক অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বছরের পর বছর বিভিন্নভাবে স্থানীয়দের অত্যাচার করেছেন। এলাকাবাসীর দাবী, ব্রেনস্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে সঞ্জুর। আর সঞ্জু ও অভিষেক, দুজনের বিরুদ্ধে জমে থাকা সেই ক্ষোভের জেরেই ডিম হামলা।


উল্লেখ্য, শুধু অভিষেকের ওপর হামলা নয়। শনিবারের পর রবিবার, পথে নেমে আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। চোর স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি ঢিল ছোড়া হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন কল্যাণ। এর আগে নিমতায় নিজের এলাকাতেই বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় তৃণমূলের সাংসদ সৌগত রায়। চোর স্লোগানের পাশাপাশি ডিম ছোড়া হয় তৃণমূল সাংসদকে লক্ষ্য করে। 

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad