কলকাতা: সোমবারে দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এবারে আরও এক সাংসদকে বহিষ্কার করতে পারে দল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় অন্তত এমনটাই ইঙ্গিত মিলল। যদিও তিনি নাম নেননি, তবে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর নিশানায় ছিলেন বলেই মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বেসুরো কাকলি। দলের সমস্ত পদ ছাড়ার পাশাপাশি দলের দুর্নীতি নিয়েও সরব হন তিনি। এমনকি দলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বারাসতের সাংসদ।
সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে বিজেপিকে তুলোধনা করেন মমতা। ভোট লুট থেকে শুরু করে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা নিয়ে সরব হন মমতা। এছাড়াও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা, দলীয় নেতা-কর্মীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। সেইসঙ্গে হকার উচ্ছেদ, বকরি ঈদ সবকিছু নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা।
এর পাশাপাশি দলের হঠাৎ বিদ্রোহীদেরও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। ক্ষমতার লোভ ও বিজেপির সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ তোলেন তাঁদের বিরুদ্ধে। মমতা বলেন, আমরা এমন লোকদের ক্ষমা করিনি। আজকে দু'জনকে আমরা দল থেকে বহিষ্কার করে দিয়েছি। যারা রোজ গিয়ে বিজেপির সঙ্গে দেখা করছে এবং বিজেপির কথামতো সবাইকে ডেকে ভয় দেখাচ্ছে। মমতা বলেন, "এর মধ্যে একজন সাংসদও আছেন। তিনি আবার অন্যদের সাথে যোগাযোগও করছেন। অপরাধটা কি! না তিনি তাঁর ছেলের জন্য টিকিট চেয়েছিলেন। শুধু কি সব বাবা-মা সাংসদ-বিধায়ক হবেন, তাঁর ছেলেমেয়েরাই টিকিট পাবে!"
তিনি বলেন, "তাও দল যদি মনে করত তাহলে নিশ্চয়ই দিত। যেখানে দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আপনি দলের সাংসদ হয়েছেন, দলের প্রতীকে। আর আজকে আপনি দলের বিরোধিতা করলে, যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী যে কারো কাছে আবেদন করেন, তাহলে আপনাকে দলে রাখার কী দরকার।"
তিনি অবশ্য এও বলেন, "দল যা সিদ্ধান্ত নেবে তাই হবে। আজকের সিদ্ধান্তও দলের নির্দিষ্ট কমিটিই নিয়েছে। আমি নিইনি।" 'দল নিজের নিয়ম অনুযায়ী চলবে, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলবে', বার্তা মমতার।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরেই হঠাৎ বেসুরো হয়ে উঠেছেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভার সচেতকের পদ হারানোর পরে সমাজমাধ্যমে ঠুকে পোস্ট, এরপর বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন কাকলি। তার আগে কাকলির নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যবস্থা করে দিয়েছে মোদী সরকার। এমনকি কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তিন জেলা নিয়ে সমন্বয় বৈঠকেও ছিলেন তিনি। যদিও এ নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বলেছিলেন, 'প্রশাসন সবার, এটা কোনও দলীয় কর্মসূচী নয়।' এরপর দলীয় সব পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন কাকলি। আর এদিন নাম না নিয়েই কাকলিকে নিশানা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উল্লেখ্য, সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা- দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে দুজনকে বহিষ্কার করা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর।

No comments:
Post a Comment