কলকাতা: তৃণমূলকে ভাঙার চক্রান্ত চলছে, এমনই অভিযোগ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কালীঘাটের বাড়ি থেকে একটি ভিডিও বার্তায় বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক তোপ দাগেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নাম না নিয়ে ঋতব্রত, সন্দীপনের মতো তৃণমূল নেতাদের দিকেও আঙুল তোলেন তিনি। একই সঙ্গে কড়া ভাষায় বলে দিলেন, 'যাঁরা দল ভাঙার খেলা খেলছেন তাঁদের বলছি, আমিও বড় খেলোয়াড়। ওয়েট করুন।'
ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরেই একাধিক তৃণমূল কাউন্সিলার পদত্যাগ করেছেন।অনেক বিধায়কও মমতার ডাকা বৈঠকে গরহাজির থেকেছেন। তাঁদের অনেকেই বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর সাফ কথা, 'যাঁরা বিজেপির সঙ্গে যাবেন বলে মনস্থির করে ফেলেছেন, তাঁরা বলবেন না, আমরা কর্মীদের দেখিনি। আমি রোজ অফিসে বসি। অভিষেকও বসত। এখন অসুস্থ বলে বসতে পারছে না।'
এদিনও ফের বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট লুটের অভিযোগ তোলেন মমতা। নির্বাচনে ভরাডুবির পরে পরাজয় স্বীকার করতে চাননি। সোজাসুজি বলে দিয়েছিলেন, 'বিজেপি ভোট চুরি করে জিতেছে।' এ দিনও বলেন, 'আমি হারিনি। আমাকে হারানো হয়েছে। তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। বিজেপি ১৭৭টা সিটে রিগিং করেছে।' পুলিশের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তিনি বলেন, "আমাদের নেতাদের মারছে আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছে।" তাঁর অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্ট ঘরছাড়াদের ফেরানোর নির্দেশ দিলেও পুলিশ মানছে না। তিনি বলেন, "পুলিশ কখনও ফুলিশ হতে পারে না।" মমতা বলেন, 'এভাবে তৃণমূলকে ভাঙতে পারবে না। আমরা আরও শক্তিশালী হব।'
ভোট পরবর্তী হিংসা-সহ একাধিক অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার পথে নামতে চলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ধর্নায় বসার কথা জানিয়ে পুলিশকে চিঠি দিলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ। তারপরেও ধর্না হবে বলে এদিন জানিয়ে দিলেন মমতা। তিনি বলেন, 'আপনারা ১টা থেকে আসুন। ধর্না হবে। যেখানে আটকাবে সেখানে বসে পড়ব। আমরা পথে নামার লোক। এভাবে দমিয়ে রাখতে পারবে না।' বাংলায় আন্দোলন করতে না দিলে দিল্লী গিয়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
এছাড়াও অভিষেকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হামলা নিয়েও সরব হন তিনি। সেইসঙ্গে হকার উচ্ছেদ ও বুলডোজার অভিযান নিয়েও বিজেপিকে নিশানা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

No comments:
Post a Comment