কলকাতা: কয়েকদিন ধরেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে 'নতুন তৃণমূল'। বলা ভালো মমতার তৃণমূল এখন ঋতব্রতর তৃণমূলের পথে। এই নিয়ে জোর চর্চা রাজ্য রাজনীতিতে। ইতিমধ্যেই ৫৮ বিদ্রোহী বিধায়কের সমর্থনে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হয়েছেন বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেদের তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে দাবী করে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের এই পরিষদীয় দলের পরামর্শদাতা হিসেবে থাকতে অনুরোধ জানিয়েছেন ঋতব্রত।
এতে করে দলের অন্দরের ফাটল যে কতটা চওড়া হয়েছে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর, তা বুঝতে বাকি নেই রাজ্যবাসীর। এবারে বিধানসভার পুনরাবৃত্তি কী লোকসভাতেও? এমন জল্পনা তীব্র হচ্ছে। গুঞ্জন লোকসভার দলনেতা হবেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সাংসদ নিজে এমন দাবী যদিও করেননি, তবে, এইসব জল্পনা-গুঞ্জনের মাঝেই বিস্ফোরক পোস্ট কাকলির।
শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে যে পোস্ট কাকলি করেছেন, তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বারাসতের তৃণমূল সাংসদ লেখেন, "আপনার কি মনে হয়, একটি রাজনৈতিক পরিবারের চারবারের সাংসদ, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থেকে চার দশক ধরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়েছেন, তিনি নিজের কথা ভাবেন? এটি নীতির বিরুদ্ধে রায় এবং শাসনের ব্যর্থতা।" বর্তমানে বাংলার পরিস্থিতি যে পূর্বতন শাসকের, শাসনের ব্যর্থতা, নীতি ও আদর্শের বিরুদ্ধেই জনতা এমন রায় দিয়েছে, এটাই বোঝাতে বুঝিয়ে দিয়েছেন সাংসদ।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের সঙ্গী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সময়টা চারদশকেরও বেশি। তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে ভরসার হাত ছিলেন তিনি। ছাব্বিশের নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে পর্যন্ত লোকসভার মুখ্য সচেতক ছিলেন কাকলি। কিন্তু নির্বাচনে ভরাডুবির পর হঠাৎই তাঁকে সরিয়ে সেই জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এখান থেকেই সূত্রপাত ফাটলের। প্রকাশ্যে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। আইপ্যাক দলের সর্বনাশ করেছে দাবি করেন। দলের যাবতীয় পদ ছেড়ে দেন সাংসদ। এরপরই কেন্দ্রের তরফে তাঁর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকেও দেখা যায় কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এতে করেই জল্পনা শুরু হয়, প্রাক্তন সহযোদ্ধা শুভেন্দুর সঙ্গে গোপন আঁতাত হয়েছে তাঁর। এরপর তৃণমূলের পরিষদীয় দল মমতার হাতছাড়া হতেই গুঞ্জন ওঠে, সাংসদদের মধ্যে ভাঙন কেবল সময়ের অপেক্ষা। এরই মাঝে শুক্রবার কাকলির এই পোস্ট, সেই জল্পনা যেন আরও উসকে দিল। এই জল এখন কোথায় গড়ায়, সেটাই দেখার।


No comments:
Post a Comment