কলকাতা: গ্ৰেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে থাকলেও তৃণমূল জমানায় তা প্রকাশ করার সাহস খুব একটা দেখাতে পারেননি কেউ। বৃহস্পতিবার রাতে স্বরূপ গ্ৰেফতার হতেই প্রচুর মানুষ আলিপুর থানায় জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। এদিন রাতে শ্লীলতাহানি ও অস্ত্র আইনে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শুক্রবার সকালে এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন দিলীপ। মন্ত্রী বলেন, “ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে কত মানুষের ওপর যে অত্যাচার করেছে। ক্ষমতার অপব্যাবহার করেছে।”
শুক্রবার সকালে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়ে কথা বলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "এরপর আরও অভিযোগ জানা যাবে। ভয়ে লোকেরা বলতেন না। বহু লোক অত্যাচারিত হয়েছেন। গোটা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে এরা শুষে খেয়েছে। যারা এখনও অভিযোগ করার সুযোগ পাননি, এখন করুন। লোকে তো জানুক কত অত্যাচারী ছিল এরা। ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। বছরের পর বছর মানুষ মুখ খোলার সাহস পায়নি। এখন কমপ্লেন করছে। অনেক এফআইআর হবে। দেশে আইন আছে। অন্যায় করলে কেউ ছাড় পাবে না।”
টলিপাড়ার দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিশ্বাস ব্রাদার্সের ওপর। অভিযোগ, দাদা অরূপ বিশ্বাসের ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে দেদার টলিউডে একছত্র আধিপত্য স্থাপন করেছিলেন স্বরূপ। অভিনেতা-অভিনেত্রী থেকে কলাকুলশী, সকলেই তাঁর অত্যাচারের শিকার। বৃহস্পতিবার রাতে শেষমেষ এক মেকআপ আর্টিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে । অভিযোগকারী মহিলা জানান, দু’বছর ধরে কোনও কাজ পাননি। কাজ চাইতে গেলে তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবী করা হয়। শুধু তাই নয়, টাকা না দিলে ভবিষ্যতে কাজ দেওয়া হবে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দু’বছর পর ফের কাজের খোঁজে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ।
কুকীর্তির এখানেই শেষ না। মহিলার আরও অভিযোগ, গত মার্চে ওই মহিলার বাড়িতে তাঁকে খুন করার উদ্দেশ্যে অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছিল স্বরূপের দলবল। ফেডারেশনের সদস্য ওই মহিলার বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার তৎপর হয় নিউ আলিপুর থানা। এই গ্রেফতারিতে স্বস্তি পেয়েছেন টলিউডের তারকা-কলাকুশলীরা। অনেকেই প্রকাশ্যে মুখও খুলেছেন।

No comments:
Post a Comment