কলকাতা: বেপাত্তা তৃণমূল নেতা শওকত মোল্লা। বৃহস্পতিবার সকালেই তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়িতে এনআইএ হানা দেয়। দিনভর তল্লাশি অভিযান চললেও খোঁজ মেলেনি শওকতের। তাঁর ছেলেকে আটক করা হলেও বাবার সন্ধান পাওয়া যায়নি। সূত্রে খবর, বাংলাদেশে পালানোর ছক কষেছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক। যদিও তাতে সফল হননি তিনি। আর এসবের মাঝেই শওকত মোল্লাকে পলাতক ঘোষণা করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ।
কোনওভাবেই যাতে তৃণমূল নেতা দেশ ছাড়তে না পারেন, সেই কারণে ইতিমধ্যেই বিএসএফের সঙ্গে অভিযুক্তের যাবতীয় তথ্য শেয়ার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একজনের মৃত্যু হয়। আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। সেই ঘটনার তদন্ত সম্প্রতি জোরদার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তের সূত্রে বেশ কিছুদিন আগে ওয়াহিদুল ইসলাম নামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। সেই ঘটনার তদন্তে বৃহস্পতিবার এনআইএর একাধিক দল ভাঙড়ে হানা দেয়।
একটি দল ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার বাড়ি, দলীয় কার্যালয়-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায়। তবে তল্লাশির আগেই নাকি শওকত এলাকা ছাড়েন। ফলে দীর্ঘক্ষণ বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে হয় তদন্তকারীদের। এরপর তৃণমূল নেতার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ঢোকেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। তাঁকে আটক করা হয়।
এরই মাঝে খবর, শওকত মোল্লা বাংলাদেশে পালানোর ছক কষছেন। তাঁর ফোনগুলিও বন্ধ। অনেক খুঁজেও হদিশ মেলেনি তৃণমূল নেতার। শোনা যাচ্ছে কোন এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে রয়েছেন তিনি। স্থানীয়দের দাবী, শেষ বার বাসন্তীর দিকে একজনের বাইকে দেখা গিয়েছে শওকতকে। পরিকল্পনা ছিল নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে পালানোর। কারণ, বাসন্তীর খেয়াঘাট পেরলেই দাদবেড়িয়া খেয়া ঘাট। সেখান থেকে একদম কাছে বাংলাদেশ সীমান্ত। তবে স্থানীয়রা শওকতকে শনাক্ত করেই তাঁর পথ আটকায় বলে খবর।
সূত্রের খবর, পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মাদ্রাসার দিকে চলে যায় তৃণমূল নেতা। এনআইএর কাছে এই খবর পৌঁছতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে রাতভর মাদ্রাসা, সমস্ত এলাকা-সহ জঙ্গলেও তল্লাশি চালায় এনআইএ। কিন্তু হদিশ মেলেনি শওকতের। আর তিনি যাতে কোনওভাবে বাংলাদেশে পালাতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে সবরকম চেষ্টা চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।

No comments:
Post a Comment