মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদ হাকিমের, চোখের কোণে জল নিয়ে ছাড়লেন পুরসভা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, June 5, 2026

মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদ হাকিমের, চোখের কোণে জল নিয়ে ছাড়লেন পুরসভা

 

কলকাতা: মেয়র পদ থেকে ইস্তফা ফিরহাদ হাকিমের। শুক্রবার দুপুরে কলকাতা পৌরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। সাংবাদিক সম্মেলন নিজেই জানালেন ফিরহাদ হাকিম। কয়েকদিন ধরেই জল্পনা চলছিল তিনি ইস্তফা দিতে পারেন আর তাতেই এদিন সিলমোহর পড়ল। শোনাই যাচ্ছিল কলকাতার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিম ইস্তফা দিতে চলেছেন। আর এই নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা বুধবার চরমে পৌঁছয়, যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের এই বিষয়ে জানিয়ে দেন। এর আগে এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকেও দেখা যায় ফিরহাদকে।


তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ দাবী করেছিলেন, ফিরহাদ পদত্যাগের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাতে সম্মতি দিয়েছেন। এভাবে কাজ করা যাচ্ছে না বলেই পদত্যাগ করতে চান ফিরহাদ, দাবী করেছিলেন কুণাল। যদিও সেই সময় ফিরহাদ হাকিম তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে জানিয়েছিলেন, তিনি পদত্যাগ করেননি। কিন্তু এদিন সমস্ত জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। 


কুণাল ঘোষ বলেছিলেন, "কলকাতার মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিম আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে বারবার ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। সর্বশেষ দিন আমিও ছিলাম। কথা হয়। তিনি বলেন কাজ করা যাচ্ছে না এবং আজকে নবান্নের যে প্রশাসনিক সভা সেখানেও যে আলোচনা হয়েছে তাতেও বলা হয়েছে যে কলকাতা পুরসভা অকার্যকর হয়ে রয়েছে। কমিশনার এমএলএ- দের পরামর্শ নিয়ে কাজ করবে।"


কিন্তু এই দাবী অস্বীকার করেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, "কুণাল কী বলছে আমি জানি না।" একইসঙ্গে এই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দেন কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়। বৃহস্পতিবার কলকাতা পুরসভায় সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত মেয়রের কোনও পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে জমা পড়েনি। পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মালা বলেন, "এখনও পর্যন্ত মেয়র কোনও পদত্যাগপত্র আমার কাছে পাঠাননি। পাঠালে আপনারা জানতে পারবেন।"


এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পদত্যাগের কথা নিজেই জানালেন ফিরহাদ হাকিম। 'মেয়র হিসেবে কোভিড ছিল বড় চ্যালেঞ্জ', এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, 'ভ্যাকসিনের ট্রায়াল আমি নিয়েছিলাম। এছাড়াও আম্ফান ছিল বড় আরেকটি চ্যালেঞ্জ।' তিনি বলেন, 'মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি, তাঁদের সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করেছি। মানুষের সমস্যা জানতে টক টু মেয়র চালু করা হয়েছিল।' এছাড়াও যেসব কাজ করা হয়নি, সেগুলোও তুলে ধরেন তিনি।


কিন্তু কেন পদত্যাগ করছেন? তিনি বলেন, "ফিরহাদ হাকিম কেউ না। কিন্তু এই চেয়ারের সম্মান আছে। চেয়ার ধরে বসে রইলাম, ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরাম সরদার, এটা সেইসব মানুষের প্রতি অসম্মান, যাঁরা আমার প্রাতঃস্মরণীয়, যাঁরা আগে দাপটের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন।" 


তিনি বলেন, "আমি যখন মেয়র ছিলাম, দাপটের সঙ্গে কাজ চালিয়েছি। আমি নিজেই পৌরমন্ত্রী, আমিই মেয়র। সব একাই সামলেছি। প্রচুর মানুষের কথা শুনে ব্যবস্থা নিয়েছি, সেটা আর সম্ভব হচ্ছে না। আমি এই চেয়ারটাকে আর অবমাননা করতে চাইছি না। এই চেয়ারের সম্মানহানি করব না।" তিনি বলেন, 'এখন আর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।' আগামীতে যিনি দায়িত্ব নেবেন, ভালো কাজ করবেন, আশা প্রকাশ ফিরহাদের। 


ফিরহাদ জানান, তাঁর এই পদত্যাগের কথা তিনি দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও জানিয়েছেন। তাঁর সবুজ সংকেত পাওয়ার পরেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু কি কারণে তিনি কাজ করতে পারছেন না, সেকথা বলেননি। এদিন চেয়ারপারসনের ঘরে ইস্তফাপত্র জমা দেন ফিরহাদ হাকিম। জানা যাচ্ছে, এখান থেকে বেরিয়ে তিনি যাবেন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। 


এদিন পুরসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আগে নেতাজী মূর্তির সামনে প্রণাম করেন ফিরহাদ হাকিম। শেষবার নিজের ঘরে গেলেও তাঁর চেয়ারে তিনি বসেননি। যখন পুরসভা থেকে তিনি বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁর চোখের কোণে চিকচিক করছিল জল। সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরলেও কোনও প্রশ্নের জবাব তিনি দেননি। 


No comments:

Post a Comment

Post Top Ad