উত্তর ২৪ পরগনা: নিজের ঘর থেকে উদ্ধার তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাস্থলে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়ার যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের পিঙ্গলেশ্বর গ্রামে। মৃতের নাম জাহিদুল হক বৈদ্য। মঙ্গলবার সকালে তাঁর নিজের ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই প্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছিলেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, স্বচ্ছ ভারত মিশন প্রকল্পে যদুরহাটি উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতে ১২ টি ব্যাটারিচালিত ময়লাফেলা গাড়ি (টোটো) সরকার থেকে দেওয়া হয়। গত তিন বছর আগে দেওয়া হয় এই গাড়িগুলো। এলাকার মানুষের অভিযোগ, প্রধান সেগুলো তাঁর নিজের বাড়িতে নিয়ে যান এবং পার্শ্ববর্তী একজনের আম বাগানে রেখে দেয়। কিন্তু তারপরে এলাকার মানুষ দেখে ১২টি টোটো থেকে এখন ৩টি টোটো আছে। বাদবাকি ৯টি টোটো বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ৩১ শে মে তাঁরা অভিযোগ করেন, 'স্বচ্ছ ভারত মিশন'-এর অত্যাধুনিক ব্যাটারিচালিত ময়লাফেলার গাড়ি বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন জাহিদুল। অভিযোগের পরেই বাকি ৩টি টোটো যার বাগানে রেখেছিলেন, তারা সকলে মিলে নিয়ে প্রধানের বাড়ির ভেতরে রেখে আসেন। সেই সময় গ্রামের একজন বাধা দিতে গেলে তাঁকে ধরে বেধড়ক মারধর করা হয়। অসুস্থ গ্রামবাসী প্রথমে বাদুড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা করান এবং পরে বাদুড়িয়া থানায় মারধর সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩১ মে এলাকার মানুষ ওই পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়িতে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান তাঁর। থানায় অভিযোগ দায়ের করে তাঁকে গ্রেফতার করতে হবে এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে বলে দাবী জানান তাঁরা।
পুরো ঘটনা ঘটিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসে বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। এদিকে সেই সময় পলাতক ছিলেন সেই প্রধান। জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা বেলায় বাড়িতে আসেন তিনি। এরপর এদিন সকালে ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে।
বাসিন্দাদের দাবী, টোটো গাড়ির ব্যাটারি চুরি করা এবং দুর্নীতির অভিযোগ তিনি মানতে পারেননি। সেই অপমানে তিনি দীর্ঘদিন ভুগছিলেন। তার জন্য আত্মঘাতী হয়েছেন বলে মনে করছেন পরিবারের লোকেরাও। এছাড়াও স্থানীয়দের দাবী, তাঁর মাথায় ঋণের বোঝা ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বাদুড়িয়া থানার পুলিশ। তাঁর দেহ উদ্ধার করে রুদ্রপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কী কারণে এই ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের পর আসল কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

No comments:
Post a Comment