বিরোধী দলনেতার চেয়ারে ঋতব্রত-ই, মমতাকে নিয়েও বড় বার্তা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, June 3, 2026

বিরোধী দলনেতার চেয়ারে ঋতব্রত-ই, মমতাকে নিয়েও বড় বার্তা


কলকাতা: বিরোধী দলনেতার চেয়ারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা গোটাটাই আপাতত ৫৮ জনের একটা দল। এই সংখ্যা ৬০ হতে পারে, জানালেন তৃণমূলের সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য সচেতকের দায়িত্বে রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান। 


সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করব। তিনি জানান, আজ বেশিরভাগ বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আজ থেকে বিরোধী দল হিসেবে পথ চলা শুরু হল আমাদের।' 


ঋতব্রত বলেন, 'আমাদের পরিষদীয় দলের প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।' তিনি বলেন, 'আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছি এখানে এবং অষ্টাদশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্ক নেই।'


ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা চেয়ে বুধবার দুপুরে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে যে চিঠি হয়, তাতে অন্তত ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সই ছিল। তাতেই সিলমোহর দিয়ে ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দিলেন স্পিকার। এরপরেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ঘর খুলে দেওয়া হয়। ঋতব্রতর সঙ্গে রইলেন চার উপ দলীয় নেতা; জাভেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, সন্দীপন সাহা ও শিউলি সাহা।


বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পরে সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বলেন, 'আমরা গঠনমূলক বিরোধিতা করব। তৃণমূল দায়িত্বশীল বিরোধীর ভূমিকা পালন করবে।' পাশাপাশি তাঁর সংযোজন, 'আমরা আপাতত ৫৮ জনের একটা দল। পরে আরও ২ জন যোগ দিতে পারেন। আমি একটা কথা স্পষ্ট ভাবে বলে দিতে চাই, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। আমরা চাই, উনিই আমাদের পরামর্শদাতা হোন। আমাদের পরিষদীয় দলকে পরামর্শ দিন। এর জন্য তাঁকে আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি।' ঋতব্রত আরও বলেন, 'অষ্টাদশ বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদূরান্তে কোনও সম্পর্ক নেই।'


সেইসঙ্গে বিরোধী দলনেতার স্পষ্ট বার্তা, "তাঁর টিম ৫৮ থেকে বেড়ে হতে পারে ৬০ আর এই ৬০ জনের মধ্যে মতান্তর হতে পারে কিন্তু মনন্তর কখনও হবে না।"


বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, "আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বিষয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ নেই। আর আমরাও তৃণমূলের বিধায়ক, কেউ যেন কোনও সংশয় না রাখে।" তবে বিরোধী দলনেতা হিসেবে যে দোলাচোল এতদিন ধরে চলল তা নিয়ে তাঁর বক্তব্য, "আমাদের দু'বার ডাকা হয়েছিল, গিয়েছিলাম কালীঘাটে। কিন্তু বিরোধী দলনেতা স্থির করার ক্ষেত্রে আমাদের কোনও কথা মানা হয়নি। এমনকি যেভাবে রেজোলিউশনের নামে সই জাল করা হয়েছে সেটা লজ্জার।"



বিধানসভায় জাল সই বিতর্কে দু'দিন আগেই ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। তাঁদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ ছিল। আর, সেই ঋতব্রত এবং সন্দীপনের নেতৃত্বেই তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক একজোট হয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সিদ্ধান্তকে 'অগ্রাহ্য' করলেন। 


শেষমেশ, বহিষ্কৃত ঋতব্রতকেই বিদ্রোহী বিধায়কেরা বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নিলেন। শুধু তা-ই নয়, স্পিকারের কাছে বিদ্রোহী বিধায়কেরা যে চিঠি দিয়েছিলেন, সেখানে মমতার নামও দলনেত্রী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অন্দরের বিন্যাস কী হতে চলেছে, তা নিয়ে আবার নতুন জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।




No comments:

Post a Comment

Post Top Ad