'ও দলটা পুরো ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে', মমতার ধর্না নিয়ে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Tuesday, June 2, 2026

'ও দলটা পুরো ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে', মমতার ধর্না নিয়ে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর


কলকাতা: নির্বাচনে ভরাডুবির পর মঙ্গলবার প্রথম কর্মসূচিতে নেমেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর পথে নেমেই যেন পুড়ল মুখ। খাতায়-কলমে এখনও দলের ৭৮ জন বিধায়ক থাকলেও, মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নামঞ্চে দেখা গুটি কয়েক বিধায়কে। আর প্রাক্তন শাসক শিবিরের এহেন কঙ্কালসার দশা নিয়ে কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারকেশ্বরের প্রশাসনিক সফরের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। তিনি বলেন, "এত দূরবস্থা! ও দলটা পুরো ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।”


তারকেশ্বরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সংবিধান নিয়ে হাঁটা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, "আমাকে কে একটা ছবি পাঠিয়েছিল, এত দুরবস্থা আমি জানতাম না।" তিনি বলেন, ১৫০ টা লোক আসেনি, আপনারা সাংবাদিকরাই তো ২০০ জন গেছেন। সাংবাদিকরা না থাকলে তো আরও করুণ অবস্থা হতো। 


শুভেন্দু বলেন, রাজ্যসভা, লোকসভা মিলে এতগুলো সাংসদ, শুনলাম ৩ জন সাংসদ ও ৬ জন বিধায়ক গিয়েছেন। ও দলটার অবস্থা ফলতার মতো হয়ে গিয়েছে।” 


কোনও কোনও বিধায়ককে ২০ বার পর্যন্ত যুবরাজ (অভিষেক) ফোন করেছেন, তাও তারা ফোন ধরেননি। এই নিয়ে শুভেন্দু বলেন, "ও তো অসুস্থ শুনেছিলাম। অসুস্থ হলে ফোন করা যায় নাকি স্যালাইন-ট্যালাইন কী সব চলছে!"


মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন স্পষ্ট করে দেন, নির্বাচনের পর তৃণমূল নেত্রী নিজেকে যতই 'অপরাজিত' দাবী করুন না কেন, দলের অন্দরে তাঁর পায়ের তলার মাটি যে সম্পূর্ণ সরে গিয়েছে, তা মঙ্গলবারের কর্মসূচিই প্রমাণ করে দিল। 


নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর গত রবিবার কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে জয়ী বিধায়কদের নিয়ে একটি বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও মেরেকেটে ২০ জনের মতো বিধায়ক উপস্থিত থাকায় তড়িঘড়ি বৈঠকটি বাতিল করতে হয়। সেই ধাক্কা সামলাতে মঙ্গলবার ওয়াই চ্যানেলের ধর্নাকে আসলে ঘুরপথে একটি শক্তি পরীক্ষার কৌশল হিসেবেই বেছে নিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু সেখানেও কার্যত ব্যর্থ হলেন দলনেত্রী। ৫ জন সাংসদ এবং ৬ জন বিধায়ক মিলিয়ে ১৫ জনকেও পাশে পেলেন না তিনি। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র, ববি হাকিম, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো গুটি কয়েক আদি নেতা ছাড়া তরুণ মুখের কাউকেই দেখা গেল না এদিন।


অবশ্য ধর্নামঞ্চে লোক না থাকলেও চেনা ছন্দেই ধরা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি হুঙ্কার দেন, "জিয়েঙ্গে তো বিজেপি কো হাটাকে যায়েঙ্গে (বেঁচে থাকলে বিজেপিকে হটিয়েই ছাড়ব)।" দলের এই চওড়া ফাটলের জন্য সরাসরি পদ্ম শিবিরকে কাঠগড়ায় তুলে তিনি দাবি করেন, ভয় দেখিয়ে বা প্রলোভন দিয়ে তাঁদের বিধায়ক-সাংসদদের ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


প্রসঙ্গত, এদিন তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দিয়ে দলীয় বিধায়ক থেকে জেলা প্রশাসনের আধিকারীকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে জানান, তারকেশ্বর উন্নয়ন পরিষদ ভেঙে প্রশাসক নিযুক্ত করা হচ্ছে। তারকেশ্বর ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad