বীরভূম: দল তো ভেঙে চুরমার হচ্ছেই। এরই মাঝে পদত্যাগের হিড়িক পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে। মেমারি পৌরসভার পৌরপতি স্বপন বিষয়ী-সহ এখনও পর্যন্ত মোট ১১ জন তৃণমূল কাউন্সিলর সোমবার তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। সকাল থেকেই নির্বাচিত তৃণমূল কাউন্সিলরদের মধ্যে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার এই হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে। সোমবার তাঁরা ইস্তফাপত্র জমা দেন পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার দেবরাজ বন্দোপাধ্যায়ের কাছে। তৃণমূল কাউন্সিলরদের ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার খবর চাউর হতেই পৌরসভায় মিষ্টিমুখের আয়োজন বিজেপি কর্মীদের।
এদিন পদত্যাগ করেছেন, মেমারি পৌরসভার ১২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা চেয়ারম্যান স্বপন বিষয়ী, ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনসুরা বেগম শেখ, ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চিরঞ্জীব ঘোষ, ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ ইউসুফ, ১৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রঞ্জিৎ বাগ, ১৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাশ্মীরা খাতুন শেখ, ১১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বিলকিস খাতুন, ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোনালি বাগ, ৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাপী বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণপদ বিশ্বাস আগেই পদত্যাগ করেছেন।
পৌরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার দেবরাজ বন্দোপাধ্যায় জানান, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাউন্সিলররা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন, আমি সেই সমস্ত ইস্তফাপত্র এসডিও-র কাছে পাঠিয়ে দেব, যদিও গৃহীত হবে কি না তাঁরা সিদ্ধান্ত নেবেন।
দীর্ঘদিন ধরেই এই মেমারি পৌরসভাটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল এবং তাদের দখলেই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে এই এলাকায় তৃণমূলের কার্যত ভরাডুবির পর থেকেই ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। আজ আচমকাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে একের পর এক কাউন্সিলর পদত্যাগ করতে শুরু করেন। মেমারি পৌরসভায় মোট ১৬ জন কাউন্সিলর ছিলেন, যার মধ্যে ১১ জনই আজ পদত্যাগ করায় পৌরসভার বোর্ড কার্যত অস্তিত্ব সংকটে পড়ে গেল।
আগামী দিনে এই পৌরসভা কীভাবে চলবে? কোনও প্রশাসক বসানো হবে, নাকি নতুন করে নির্বাচন হবে? তার কোনও সঠিক সিদ্ধান্ত বা রূপরেখা এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। মেমারির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবারে কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।

No comments:
Post a Comment