কলকাতা: নতুন বিরোধী দলনেতা হচ্ছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা-হীন তৃণমূল বিধায়কদের বৈঠকে বুধবার বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্য সচেতক হিসেবে মনোনীত হন রঘুনাথগঞ্জের বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী আখরুজ্জামান। ঋতব্রত-আখরুজ্জামানকে লিখিত সমর্থন দেন ৫৮ তৃণমূল বিধায়কেরা। বিধানসভার স্পিকারের কাছে তৃণমূল বিধায়করা জমা দেন সেই চিঠি।
এর আগে চিফ হুইপ হিসেবে ফিরহাদ হাকিমের নাম জানানো হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি চিঠিতে একাধিক বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়। এছাড়াও নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ অন্যান্য তৃণমূল বিধায়কদের বাড়িতেও তদন্তে যায় সিআইডি।
এই আবহেই জল্পনা তীব্র থেকে তীব্রতর হয়; মমতার তৃণমূল কি ভেঙে খান খান হচ্ছে! কারণ তৃণমূল সুপ্রিমোর বৈঠকে গড়হাজির থেকেছেন ৬০ জন বিধায়ক। এমনকি মঙ্গলবার মমতার কর্মসূচিতেও দেখা যায়নি অনেক বিধায়ক-সাংসদকে। ফলত এই জল্পনা জোরালো হয় আরও। আর এরই মধ্যে বুধবার ৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হন দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলের অন্য বিধায়কেরাও এক এক করে বিধানসভায় হাজির হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, অরূপ রায়, শিউলি সাহা এবং আখরুজ্জামান। এ ছাড়াও এদিন বিধানসভায় হাজির হন প্রাক্তন মন্ত্রী রথীন ঘোষ থেকে শুরু করে সন্দীপন সাহা, সাবিনা ইয়াসমিন, চন্দ্রনাথ সিং, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের অনেক বিধায়করা। বর্ষীয়ান বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়কে দিয়ে অধ্যক্ষের হাতে এদিন চিঠি দেওয়া হয়। অধ্যক্ষ সব বিধায়কদের সঙ্গে দেখা করতে চান। এক এক করে কথাও বলেন। যাঁরা স্বাক্ষর করেছেন, তাঁরা উপস্থিত আছেন কিনা, সেটাও নিশ্চিত করা হয়।
এরপর ঋতব্রতর 'নতুন তৃণমূল' এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।

No comments:
Post a Comment