নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া: বর্ষার বৃষ্টিতে জল জমে বিপর্যস্ত হাওড়া শহরের জনজীবন। ধারাবাহিকভাবে পাম্প চালিয়েও বহু এলাকায় নিকাশি উপচে অলি-গলি পেরিয়ে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে জল। এই পরিস্থিতিতে শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নে জোরকদমে কাজ শুরু করেছে হাওড়া পুরসভা। পুরসভার সঙ্গে যৌথভাবে এই কাজে হাত মিলিয়েছে কেএমডিএ। রাজ্য সরকারের বরাদ্দ ১৫ কোটি টাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় নিকাশি সংস্কারের কাজ চলছে। মঙ্গলবার শরৎ সদনে সাংবাদিক বৈঠক করে এই তথ্য জানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই। উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার বিধায়ক সঞ্জয় সিং ও রুদ্রনীল ঘোষ, হাওড়া পুরসভার কমিশনার তেজস্বী রানা-সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মঙ্গলবার পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের হাওড়া শহরের বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা নিয়ে মোট ২২টি ফোন আসে। এর মধ্যে ১৬টি অভিযোগই ছিল জল জমার সমস্যা সংক্রান্ত। তিনি বলেন, হাওড়া শহরের নিকাশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। পুরসভায় পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত কর্মীর অভাব থাকায় কেএমডিএ থেকে ১৫ জন অভিজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ারকে এই কাজে যুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিন শহরের নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে হাওড়া পুরসভার তরফে একটি বিশেষ হেল্পলাইন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও চালু করা হয়। ৬২৯৩৭০৮৯৭৬ নম্বরে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানীয় জল, নিকাশী, রাস্তা রক্ষণাবেক্ষণ এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ জানাতে পারবেন নাগরিকরা। অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক বৈঠকে আসন্ন জনগণনা নিয়েও বিস্তারিত তথ্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, দুই ধাপে হবে জনগণনার কাজ। প্রথম পর্যায়ে ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা নিজেরাই অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে তথ্য নথিভুক্ত করতে পারবেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন।

No comments:
Post a Comment