নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: নাবালিকার রহস্য মৃত্যুর ঘটনায় প্রভাব খাটিয়ে অভিযোগ করতে বাধা দেওয়া ও তথ্য প্রমাণ লোপাটে সাহায্যের অভিযোগ। কয়েকদিন ধরেই তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। শেষমেষ গ্রেফতার হলেন তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সদ্য প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত। গত বিধানসভা নির্বাচনে ওন্দা থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে পাত্রসায়ের থানার পুলিশ। আজ ধৃতকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পাত্রসায়ের থানা থেকে ধৃতকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়রা চোর চোর স্লোগান দেয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ৩০ মার্চ বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের থানা এলাকায় এক নাবালিকার রহস্য মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে পাত্রসায়ের থানা এলাকার এক যুবক রোহিত মল্লিক ও তার মা রুম্পা মল্লিকের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই সময় মৃতার পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুব্রত দত্ত ওরফে গোপে দত্ত এবং তাঁর স্ত্রী তথা পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত মল্লিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাধা দেন। এমনকি ময়নাতদন্ত না করিয়ে মৃতার দেহ সৎকার করতেও বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ।
রাজ্যে পালাবদলের পর মৃতার পরিবার ১১ জুলাই পাত্রসায়ের থানায় ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর দুই অভিযুক্তকে গ্ৰেফতার করে পুলিশ এবং কৃতদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। মৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গোটা ঘটনায় তৃণমূল জেলা সভাপতি সুব্রত দত্ত ও তাঁর স্ত্রী তথা পাত্রসায়ের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পূরবী দত্ত মল্লিকের যোগসাজেশের সূত্র হাতে পায় পুলিশ। এরপর ১২ জুলাই পূরবী দত্ত মল্লিককে গ্রেফতার করে পাত্রসায়ের থানার পুলিশ।
এদিকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর থেকেই বেশ কিছুদিন ধরে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সুব্রত দত্ত। তাঁর খোঁজেও শুরু হয় তল্লাশি। গতকাল রাতে সুব্রতর বাবা অসুস্থ হয়ে পাত্রসায়ের প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি হন। সেই খবর পেয়ে রাতে বাবাকে দেখতে আসছিলেন সুব্রত। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে পাত্রসায়ের থানা এলাকা থেকে অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করে। জেততের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সঙ্গীতার নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আজ বুধবার ধৃতকে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।

No comments:
Post a Comment