রিফাইন্ড তেল কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Sunday, July 5, 2026

রিফাইন্ড তেল কি সত্যিই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা


 রান্নার অন্যতম প্রধান উপকরণ হলো ভোজ্য তেল। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবারেই রিফাইন্ড তেল ব্যবহার করা হয়। কারণ এটি দেখতে স্বচ্ছ, গন্ধ কম এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইটে রিফাইন্ড তেল নিয়ে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও বলা হচ্ছে, এই তেল নাকি প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর কারণ। আবার কোথাও দাবি করা হচ্ছে, এটি ক্যান্সার, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিসসহ অসংখ্য জটিল রোগের জন্য দায়ী। তবে এসব দাবির কতটা সত্য, তা জানা জরুরি।

রিফাইন্ড তেল কী?

সরিষা, সয়াবিন, সূর্যমুখী, ধান, তুলা বা অন্যান্য তেলবীজ থেকে প্রথমে অপরিশোধিত তেল বের করা হয়। এই তেলে প্রাকৃতিকভাবে কিছু ময়লা, মোমজাতীয় পদার্থ, গন্ধ ও রঙ থাকে। এগুলো দূর করতে শিল্পকারখানায় নির্দিষ্ট ধাপে তেল পরিশোধন বা রিফাইন করা হয়। এর ফলে তেল স্বচ্ছ হয়, দীর্ঘদিন ভালো থাকে এবং রান্নার জন্য উপযোগী হয়ে ওঠে।

কীভাবে রিফাইন করা হয়?

রিফাইনিংয়ের সময় তেল থেকে অপ্রয়োজনীয় উপাদান দূর করতে বিভিন্ন শিল্পপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। এতে তাপ, ফিল্টার এবং কিছু খাদ্য-শিল্পে অনুমোদিত রাসায়নিক ব্যবহার করা হতে পারে। তবে পরিশোধনের পর সেই রাসায়নিকের ক্ষতিকর অবশিষ্টাংশ খাদ্যে না থাকে, তা নিশ্চিত করার জন্য মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তাই শুধু রিফাইনিং প্রক্রিয়ায় রাসায়নিক ব্যবহৃত হয় বলেই তেল ক্ষতিকর হয়ে যায়—এমন ধারণা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়।

রিফাইন্ড তেল কি রোগের কারণ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি নির্দিষ্ট রিফাইন্ড তেলকে একাই ক্যান্সার, পক্ষাঘাত, বন্ধ্যত্ব বা ডিএনএ ক্ষতির সরাসরি কারণ বলা যায় না। বর্তমানে এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই, যা দেখায় যে বাজারে অনুমোদিত রিফাইন্ড তেল স্বাভাবিক পরিমাণে খেলে এসব রোগ নিশ্চিতভাবে হয়।

তবে অতিরিক্ত তেল খাওয়া, অতিরিক্ত ভাজাভুজি খাওয়া এবং একই তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এতে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

শুধু তেলের ধরন নয়, বরং কতটা তেল খাওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে—এটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার, ফাস্ট ফুড, ট্রান্স ফ্যাট এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদ্‌রোগ, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়।

সুস্থ থাকতে কী করবেন?

পরিমিত পরিমাণে তেল ব্যবহার করুন।

একই তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করবেন না।

ভাজা খাবারের বদলে সেদ্ধ, ঝোল বা কম তেলে রান্না করা খাবার বেশি খান।

বিভিন্ন ধরনের ভোজ্য তেল পালা করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রতিদিন ফল, শাকসবজি ও আঁশযুক্ত খাবার খাদ্যতালিকায় রাখুন।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।


রিফাইন্ড তেল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা দাবি থাকলেও সব তথ্য সত্য নয়। বাজারে অনুমোদিত মানসম্পন্ন রিফাইন্ড তেল পরিমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে তা যে সরাসরি প্রাণঘাতী রোগের কারণ—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। তবে অতিরিক্ত তেল খাওয়া, বারবার একই তেল ব্যবহার করা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অবশ্যই বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্য জেনে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad