বাংলাদেশে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতেই রয়েছেন। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভ দমনের চেষ্টার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শামা ওবাইদ ইসলাম এখন শেখ হাসিনাকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি দিয়েছেন। ওবাইদ বলেছেন যে, বিচারের মুখোমুখি করার জন্য শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন যে, তারা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কোনো কমতি দেখছেন না এবং প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে শুরু হয়েছিল এবং বিএনপি সরকার এখন তা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। শামা বলেন, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় সময় লাগে।
তিনি আরও বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তি বা অন্যান্য প্রযোজ্য আইনি বিধানের অধীনে একজন সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরিচালিত হয়। শামা ওবাইদ ইসলাম প্রত্যর্পণে কোনো আইনি বাধা বা ভারতের অবস্থান সম্পর্কে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। তাকে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক মন্তব্য সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবাইদ ইসলাম বলেছেন, একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতকের মন্তব্য আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কহীন। উল্লেখ্য, তার সরকারের ক্ষমতাচ্যুতির দ্বিতীয় বার্ষিকীতে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আনা মৃত্যুদণ্ড, ফৌজদারি দণ্ডাদেশ এবং সমস্ত অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, সরকারের বিরুদ্ধে সহিংস ছাত্র বিক্ষোভের জেরে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বিক্ষোভকারীরা তার সরকারি বাসভবনে হামলা চালায়। প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি বিমানে ভারতে আসেন এবং তখন থেকেই সেখানে বসবাস করছেন। ভারত ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা তাদের বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে।

No comments:
Post a Comment