২১ জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’কে কেন্দ্র করে এ বছর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ধর্মতলায় তাদের ঐতিহ্যবাহী সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির একই দিনে কলকাতার মেয়ো রোডে পৃথক সমাবেশের ঘোষণা করেছে। ফলে একই দিনে রাজধানী কলকাতায় দুই রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে পৌঁছেছে।
বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে তাদের সভার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়েছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই এই কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ধর্মতলার অতি নিকটে এই সভাস্থল বেছে নেওয়া নিছক কাকতালীয় নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার কৌশল।
অন্যদিকে, বহু বছরের প্রথা বজায় রেখে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন এলাকায় শহিদ দিবসের সমাবেশ করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস। তবে কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে চূড়ান্ত অনুমতি না পাওয়ায় দলটি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে এবং মামলার শুনানির অপেক্ষা চলছে।
এদিকে কলকাতা পুলিশের জারি করা নির্দেশিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শহরের কেন্দ্রীয় অংশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারার অধীনে জমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, জননিরাপত্তা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কয়েক দিন আগে ধর্মতলার সম্ভাব্য সভাস্থলে গিয়ে তৃণমূলের কয়েকজন নেতা প্রস্তুতিমূলক পরিদর্শন করেন এবং মঞ্চের সম্ভাব্য জায়গা পরিমাপ করেন। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেও রাজনৈতিক মহলে জোর বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়াই প্রস্তুতি শুরু করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের দাবি, এটি ছিল শুধুমাত্র প্রাথমিক পরিদর্শন।
উল্লেখ্য, শহিদ দিবসের সমাবেশ নিয়ে আদালতে একটি পৃথক আদালত অবমাননার মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। অতীতের একটি কর্মসূচিকে ঘিরে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে সেই মামলার শুনানি চলছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির কাছ থেকে হলফনামাও চাওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এ বছরের ২১ জুলাই শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদালতের নির্দেশ এবং রাজনৈতিক শক্তিপরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। আদালতের রায়, প্রশাসনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং দুই পক্ষের কর্মসূচি— সবকিছুর দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।

No comments:
Post a Comment