নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ভারত বড় ধরনের জ্বালানি সংকটের মুখে পড়তে পারত। তবে সময়মতো সঠিক পরিকল্পনা, কূটনৈতিক উদ্যোগ এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে সেই সংকট এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
শনিবার রাজস্থানের বালোত্রা জেলায় দেশের প্রথম গ্রীনফিল্ড সমন্বিত রিফাইনারি-সহ-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভারতের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
মোদি জানান, ভারতের এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারত। এই পরিস্থিতিতে ভারত দ্রুত বিকল্প উৎস খুঁজে বের করে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি সংগ্রহ করে। এর ফলে দেশে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধের সময় অনেকেই আতঙ্ক ও গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্র সরকার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, তেল বিপণন সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভারত এখন শুধু একটি বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশ নয়, বরং ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিকাঠামো উন্নয়নেও জোর দিচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই রাজস্থানের বালোত্রায় গড়ে ওঠা দেশের প্রথম গ্রীনফিল্ড সমন্বিত রিফাইনারি-সহ-পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই প্রকল্প দেশের জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি দাবি করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, এদিন জোধপুর বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনেরও উদ্বোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি সড়ক, রেল, মেট্রো, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন-সহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেসকেও আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারের অসহযোগিতার কারণে রাজস্থানের রিফাইনারি প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন আটকে ছিল। বর্তমানে রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করে দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের সময় ভারতের দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ, বহুমুখী জ্বালানি আমদানি নীতি এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতেও আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারতকে একই ধরনের বহুমুখী কৌশল অনুসরণ করতে হতে পারে।

No comments:
Post a Comment