মোদীর নতুন মন্ত্রিসভা: এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় এবং চাঞ্চল্যকর খবরটি জাতীয় রাজনীতির অলিগলি থেকে উঠে আসছে। কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদী সরকার তার তৃতীয় মেয়াদের প্রথম এবং সবচেয়ে বড় মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ চূড়ান্ত করেছে। অভ্যন্তরীণ নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর ঠিক আগে এই বড় রদবদলটি করা হবে। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ফলে শুধু বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দপ্তরেই বড় ধরনের রদবদল হবে না, বরং কিছু অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব স্থায়ীভাবে তাদের পদও হারাতে পারেন। এই বড় সম্প্রসারণে উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব এবং উত্তরাখণ্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলির নতুন মুখদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যেখানে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কের পর ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিদায়
এই সম্ভাব্য রদবদলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা হতে পারেন বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কেলেঙ্কারিতে চারদিক থেকে ঘেরাও হওয়ার পর থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান বিরোধীদের ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। দেশজুড়ে যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে, তার পর দিন দিন তার পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হচ্ছে। শুধু প্রধান বিরোধী দলগুলোই নয়, তেলাপোকা জনতা পার্টির মতো আরও বেশ কয়েকটি সংগঠনও গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে তাঁর বিরুদ্ধে হিংসাত্মক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছে। এই ব্যাপক জনরোষ ও ছাত্র ক্ষোভ প্রশমিত করতে মোদী সরকার এখন তাঁকে একজন নিষ্কলঙ্ক ভাবমূর্তির নেতা দিয়ে প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হবে
গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরিয়ে দেওয়ার পর, বর্তমান কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর ব্যাপক অভিজ্ঞতার কথা বিবেচনা করে সরকার তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে। এদিকে, দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী এবং ভিভিআইপি দপ্তর হিসেবে বিবেচিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধানের দায়িত্ব ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (আরবিআই) প্রাক্তন গভর্নর শক্তিকান্ত দাসকে দেওয়া হতে পারে। কেন্দ্রীয় সরকার শক্তিকান্ত দাসের গভর্নর হিসেবে দায়িত্বকালকে অত্যন্ত সফল এবং ঐতিহাসিক বলে মনে করে। তাঁর মেয়াদে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী ছিল এবং মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল, যে কারণে তাঁকে এখন দেশের নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত করা হতে পারে।
রাঘব চাড্ডার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হবে, পঙ্কজ চৌধুরী বাদ পড়বেন।
এই রাজনৈতিক রদবদল শুধু মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজ্য মন্ত্রীদের উপরেও এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে। সূত্রমতে, বর্তমান কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীকে উত্তর প্রদেশ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হতে পারে। এই নতুন সাংগঠনিক দায়িত্বের ফলে মন্ত্রিসভা থেকে তাঁর সম্পূর্ণ অপসারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, রাঘব চাড্ডা, একজন তরুণ নেতা যিনি সম্প্রতি আম আদমি পার্টি (এএপি) ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন অর্থ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পঙ্কজ চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন, যা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পালাবদল হিসেবে প্রমাণিত হবে।
নীতিন গাডকারির দপ্তরও বদলাতে পারে
রাজনৈতিক মহলে প্রচারিত খবর অনুযায়ী, মোদী সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় ও সফল মন্ত্রী নীতিন গাডকারির দপ্তরও এবার বদলানো হতে পারে। যদিও এই বড় সিদ্ধান্তের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা নিশ্চিতকরণ জারি করা হয়নি, তবে গণমাধ্যমের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এছাড়াও, এমন জোরালো জল্পনা রয়েছে যে মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের সাংসদ পুত্র শ্রীকান্ত শিন্দেকেও এবার মোদী মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের ফলাফলের পর সেই রাজ্যের সাংসদরাও পুরস্কার পেতে পারেন। সম্প্রতি, দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গোপনীয় বৈঠক করেন, যা তাঁর সম্ভাব্য মন্ত্রী পদে নিয়োগ নিয়ে জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
নীতীশ কুমার কি কেন্দ্রের মন্ত্রিসভার সদস্য হবেন?
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এক বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, যখন শিবসেনার উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে (ইউবিটি) গোষ্ঠীর ছয়জন সাংসদ উদ্ধব ঠাকরের দল ছেড়ে একনাথ শিন্দের মূল শিবসেনায় যোগ দেন। এই বিভাজনের ফলে সংসদে শিন্দে গোষ্ঠীর ক্ষমতা হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে এবং পুরস্কারস্বরূপ তাদের কোটা থেকে নতুন মন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত। একইভাবে, তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এনসিপিআই-তে (এনসিপিআই) যোগ দেওয়া ২০ জন সাংসদের মধ্যে একজনকেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য লোকসভার স্পিকারের অপেক্ষা করা হচ্ছে। এই সবকিছুর মধ্যে, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে নিয়েই সবচেয়ে বড় রহস্য রয়ে গেছে, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্যাবিনেট মন্ত্রী হওয়ার বিষয়ে যাঁর আলোচনা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি শিরোনামে রয়েছে।

No comments:
Post a Comment