নতুন সংশোধনী বিলে আগের আইনের তুলনায় শাস্তির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বড় অপরাধচক্র বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। পাশাপাশি তদন্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করা, বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে দ্রুত বিচার এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে মামলার নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেন্দ্রের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
তবে বিলটি পেশ হওয়ার সময় লোকসভায় বিরোধী সাংসদদের প্রবল হইচই ও স্লোগানবাজির মধ্যে অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধীদের অভিযোগ, শুধু আইন কঠোর করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; পরীক্ষা পরিচালনায় প্রশাসনিক ব্যর্থতা, নজরদারির অভাব এবং জবাবদিহির ঘাটতি দূর করাও সমান জরুরি। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ-সহ একাধিক বিরোধী সাংসদ সরকারের এই পদক্ষেপকে "অপর্যাপ্ত" বলে দাবি করেন।
সংসদের বাইরেও বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। বিরোধী INDIA জোটের নেতা-নেত্রীরা সংসদ চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন। সেই বিক্ষোভে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, অখিলেশ যাদবের পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্রকেও দেখা যায়। তাঁদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শুধু কঠোর আইন নয়, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড় সংস্কার আনতে হবে।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গেও এই বিলকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই কঠোর আইন আনার পথে এগিয়েছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে রাজ্যেও প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, যাতে এ ধরনের অপরাধে কেউ উৎসাহ না পায়। তবে এই মন্তব্য রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এসেছে; পশ্চিমবঙ্গে আলাদা আইন আনার বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।
এখন এই সংশোধনী বিলটি আইন হতে গেলে লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষের অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতির প্রয়োজন। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই নতুন বিধান কার্যকর হবে।

No comments:
Post a Comment