নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর: পবিত্র শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সোমবার আজ। কান্তোরনাথ মন্দিরে জলাভিষেকের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন ভক্তরা। আর এ সময়েই ঘটে গেল দুর্ঘটনা। শিলাবতী নদীতে জল তুলতে গিয়ে নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে গেলেন সাতজন ভক্ত। তাঁদের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের নাম মিলন দাস, বয়স ২৮ বছর। খবর স্থানীয় সূত্রে। এদিনের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঐতিহ্যবাহী শ্রাবণ মাসের দ্বিতীয় সোমবার উপলক্ষে কান্তোরনাথ মন্দিরে শিবের মাথায় জল ঢালার কথা ছিল স্থানীয় কিছু ভক্তদের। সেই উদ্দেশ্যেই গড়বেতা অঞ্চল থেকে সাতজনের একটি শিবভক্তদের দল কান্তোর সংলগ্ন শিলাবতী নদীর ঘাটে জল সংগ্রহ করতে নামেন। কিন্তু বর্ষার কারণে নদীতে আচমকাই প্রবল স্রোত ও গভীরতা বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং মুহূর্তের মধ্যে সাতজনই তলিয়ে যেতে থাকেন।
ঘটনাটি চোখের সামনে দেখে ঘাটে উপস্থিত অন্যান্য তীর্থযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার শুরু করেন এবং অবিলম্বে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অসীম সাহস ও প্রশাসনের যৌথ সহায়তায় অত্যন্ত তৎপরতার সাথে পাঁচজনকে জীবিত অবস্থায় নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু বাকি দু'জনকে উদ্ধার করা যায়নি।
শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে একজনের মৃতদেহ উদ্ধার হয় এবং অন্যজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। শিলাবতী নদীর বিভিন্ন অংশে স্পিডবোট ও ডুবুরি নামিয়ে জোরকদমে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও পুলিশ প্রশাসন।
দুর্ঘটনার পর কান্তোরনাথ মন্দির প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন নদীঘাট এলাকায় শোকের পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে নদীর পাড়ে অপেক্ষা করছেন। নদীর ঘাটে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে এবং সাধারণ ভক্তদের সতর্ক করতে প্রশাসন বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে।

No comments:
Post a Comment