অবিরাম বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ভূমিধসে মৃত ৮ শিশু - Press Card News

Breaking

Post Top Ad

Post Top Ad

Friday, July 10, 2026

অবিরাম বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা শিবিরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ভূমিধসে মৃত ৮ শিশু


ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১০ জুলাই ২০২৬: প্রবল বৃষ্টির জেরে ভূমিধস। বাংলাদেশে মর্মান্তিক ঘটনা। ভূমিধসে মৃত্যু হয়েছে ৮ শিশুর। পাশাপাশি আহত হয়েছে ৫ জন। বুধবার বাংলাদেশের কক্সবাজারে প্রবল বৃষ্টির জেরে একটি রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ভূমিধস নামে। এতে আট শিশুর মৃত্যু ও পাঁচজন আহত হয়েছে। দুর্ঘটনাটি পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত একটি মাদ্রাসায় ঘটেছে। কয়েক দিনের একটানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের ঢালটি ধসে পড়ে এবং মাদ্রাসাটি কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে।


উদ্ধারকারী দল ১৩ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে, কিন্তু তাদের মধ্যে আটজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আহত শিশুদের ক্যাম্প হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া বিভাগ আগামী দিনগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে, এতে করে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়েছে।


একই এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বৃষ্টিজনিত পৃথক ভূমিধসে আটজনের মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন পরেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটল। অবিরাম বৃষ্টির মধ্যে প্রশাসন জনগণকে সতর্কতা অবলম্বন করতে এবং উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ করেছে।


কক্সবাজারে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির, যেখানে ১২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস করেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সামরিক দমন-পীড়নের পর তাঁদের অধিকাংশই বাংলাদেশে আসেন। তাঁদের একটি বড় অংশ পাহাড়ের ঢালে নির্মিত অস্থায়ী বাড়িতে বাস করেন, যার ফলে প্রতি বছর বর্ষাকালে তাঁরা ভূমিধসের ঝুঁকিতে থাকেন।


রোহিঙ্গা শিবিরের বেশিরভাগ ঘর বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি। এই ঘরগুলো পাহাড়ের ঢালে নির্মিত। একটানা বৃষ্টির কারণে মাটি জলমগ্ন ও দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে মাটি নিচের দিকে ধসে পড়ে, যা ভূমিধস নামে পরিচিত। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও দালানকোঠার ব্যাপক ক্ষতি হয়।


বাংলাদেশে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হয়। কক্সবাজারের পাহাড়ি এলাকাগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বৃষ্টির পর এখানে আগেও বেশ কয়েকবার ভূমিধস হয়েছে। এবার কয়েক দিনের ব্যবধানে দুটি বড় দুর্ঘটনায় শিশুসহ বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।


আবহাওয়া বিভাগ আগামী দিনগুলোতে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী কিছু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে, বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও এমন সব এলাকায় রয়ে গেছেন যেখানে ভারী বর্ষণের সময় ঝুঁকি থেকে যায়। 


রোহিঙ্গা শিবিরের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, ঝুঁকিপূর্ণ পার্বত্য অঞ্চলের মানুষেরাই একটানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। আবহাওয়া দফতরের সতর্কবার্তার পরিপ্রেক্ষিতে আগামী দিনগুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন হবে। তাই, লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর ওপর নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।

No comments:

Post a Comment

Post Top Ad