ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ১৯ জুলাই ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে যে, শনিবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রপতির নির্দেশে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে নতুন বিমান হামলা শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক নৌচলাচলের জন্য হুমকিস্বরূপ ইরানের সক্ষমতা হ্রাস করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়।
১৭ই জুলাই জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুজন মার্কিন সৈন্য নিহত হয়েছেন। আরেকজন সৈন্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। নিহত সৈন্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, তাঁদের পরিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানোর ২৪ ঘন্টা পর নাম প্রকাশ করা হবে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে, হামলার পর চারজন সৈন্যকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চারজনকেই এখন ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সামান্য আহত অন্যান্য সৈন্যরা চিকিৎসার পর কাজে ফিরেছেন। এই ঘটনাগুলোর ফলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ১৬ জন মার্কিন সৈন্য নিহত এবং ৪৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তবে এমন শিক্ষা পাবে যা তাঁরা কখনও ভুলবে না। তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত কোনও চুক্তির আর কোনও বৈধতা নেই।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার তাঁরা ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ সরবরাহ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রের ডিপো এবং সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা নিশানা করে হামলা চালিয়েছে। এটি টানা সপ্তম রাত, যেদিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাল।
মার্কিন হামলার জবাবে ইরান কুয়েত, ইরাক, বাহরাইন, জর্ডান এবং সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কুয়েতে, যেখানে একটি সমুদ্রের জল পরিশোধন কেন্দ্র এবং একটি তেল স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনাগুলো পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং একটি কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে মনে হচ্ছে।


No comments:
Post a Comment