ওয়ার্ল্ড ডেস্ক, ০৫ জুলাই ২০২৬: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নিয়ে আবারও একটি বড়সড় বিবৃতি দিয়েছেন। ট্রাম্প দাবী করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে এক হামলায় ইরানের অবশিষ্ট সমস্ত শীর্ষ নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। তবে তিনি বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এমনটা করবে না, কারণ তারা ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চায়।
সংবাদ ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে একত্রিত হয়েছেন। তিনি বলেন, “ওরা সবাই সেখানেই আছে। আমরা একবারেই ওদের সবাইকে শেষ করে দিতে পারি কিন্তু তা করব না, কারণ তাহলে কথা বলার মতো আর কেউ থাকবে না।”
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, আমেরিকা আলী খামেনেইয়ের শেষকৃত্যের জন্য ইরানকে এক সপ্তাহের সময় দিয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশটির ওপর কোনও হামলা করবে না।
ইরানে খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী শোকানুষ্ঠানে দেশের শীর্ষ কর্তাসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নিচ্ছেন। ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসনকারী সর্বোচ্চ নেতা খামেনেই ২৮শে ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইজরায়েলি হামলায় নিহত হন। প্রথম দিন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা সামরিক জেনারেলদের দেখা যায়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "ওরা সবাই সেখানে (শেষকৃত্যে) আছে। মাত্র একটি শট এবং সবকিছু শেষ কিন্তু আমরা তা করব না, কারণ তাহলে কথা বলার মতো আর কেউ থাকবে না।" মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানে আলী খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে কান্নাকাটি করা লোকেদের দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, শেষকৃত্যের সময় কিছু ইরানিকে কাঁদতে দেখে তিনি অবাক হয়েছেন, কারণ তিনি ভেবেছিলেন মানুষ আলী খামেনেইকে ঘৃণা করে। তিনি বলেন, "হয়তো এগুলো নকল কান্না।"
প্রসঙ্গত, সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেইয়ের মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাখা হয়েছে, যাতে ইরানিরা তাঁদের প্রয়াত নেতাকে শেষ বিদায় জানানোর সুযোগ পায়। শেষকৃত্যে যোগ দিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ তেহরানে আসছেন। গ্র্যান্ড মোসাল্লার ভেতরে ও বাইরে বিশাল জনসমাগম হচ্ছে।
ইরানিরা সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন, বুকে আঘাত করছেন এবং কাঁদছেন। অশ্রুসিক্ত শোক প্রকাশ করা শিয়া ইসলামের একটি দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। শেষকৃত্যে অংশগ্রহণকারীরা লাল পতাকা বহন করছেন, যা প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। তারা "আমেরিকা নিপাত যাক" এবং "প্রতিশোধ!"-এর মতো স্লোগান দিচ্ছেন।

No comments:
Post a Comment